নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আধুনিক কৃষি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা নিজেরা নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে এবং মসজিদকেন্দ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ হাফেজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামেই মসজিদ রয়েছে এবং সবগুলোর সঙ্গেই ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা যুক্ত। ফলে তাদের মাধ্যমে কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা আধুনিক ও বিষমুক্ত কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হলে নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি অন্যদেরও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে তাদের নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বছরব্যাপী কৃষি উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতে কৃষকেরা রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করতেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন ও কৃষি ব্লকে কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এর সঙ্গে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ত করা গেলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিষয়ে সচেতনতার বার্তা আরও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করা। এ জন্য জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কেউ যাতে অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অন্যায় ও মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনে হাফেজ মাওলানা মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা এবং কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের সভাপতি মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার।
অনুষ্ঠানের শেষে মন্ত্রী তৃতীয় হিফজুল কোরআন বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী হাফেজ শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির সনদ ও স্মারক তুলে দেন।
বাসস
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।