‘স্মার্ট কৃষক’ হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস মিয়া
ফল ও সবজি চাষে সফলতা অর্জন করেছেন গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল শাখার যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সদস্য ফেরদৌস মিয়া। পরিবারে চাহিদা মেটাতে একসময় বাড়ির আঙিনায় পেঁপে চাষ শুরু করেন, পরে বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকাজে প্রবেশ করে তিনি সফলতা অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি এলাকায় ‘স্মার্ট কৃষক’ হিসেবে পরিচিত। কৃষিতে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে দুই মাস আগে সাহেদ সরকার রাকিবের সঙ্গে ‘সৌখিন কৃষক’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ চালু করেন। শুরু থেকেই তার আইডিতে লাখ লাখ ভিউ আসতে থাকে এবং গত এক মাসে প্রায় এক লাখ ফলোয়ার অর্জন করেছেন। তার ভিডিওগুলো দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দেখেছে।
ফেরদৌসের বন্ধুরা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও তিনি কৃষিকাজকেই বেছে নিয়েছেন। পড়াশোনা শেষে বাবার সঙ্গে ব্যবসায় যোগ দেওয়ার পর ২০১৬ সালে নিজের জমিতে ১০৫টি পেঁপে চারা লাগিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেন। প্রথমবারেই তিনি সফল হন এবং আয় করেন এক লাখ টাকার বেশি। এরপর তিনি জমির পরিধি ও চারার সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। ২০১৭ সালে ৫০০ পেঁপে চারা রোপণ করে ৫ লাখ টাকা আয় করেন।
বর্তমানে তার ৭ বিঘা জমিতে সতেরশো সারি পেঁপে গাছ রয়েছে, প্রতিটি গাছে প্রায় ৩০-৩৫ কেজি পেঁপে ধরে। তিনি বিভিন্ন জাতের কলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা হলুদ, মরিচসহ নানা ধরনের শাকসবজি চাষ করছেন। ফেরদৌস মিয়া এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে পেঁপে চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং নিজে ফলানো পেঁপে এলাকার এতিমখানায় দান করছেন।
তিনি বলেন, “মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, এখন দেশ-বিদেশ থেকে আরও ভালোবাসা পাচ্ছি। কৃষি সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারাটা আমার জন্য স্বার্থকতা।” তার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেক কোম্পানি থেকে উপহার ও বীজ পেয়েছেন এবং কাজের গতিও বেড়েছে।
ফেরদৌস আরও জানান, আট বছর আগে শুরু করা এই পথে তার বাবা তাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। মাঝখানে কিছু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতায় তিনি আবারো পেঁপে চাষে মনোনিবেশ করেছেন। বর্তমানে তিনি এলাকার শিক্ষার্থী ও বেকারদের পেঁপে চাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ করছেন এবং সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য দিতে প্রস্তুত আছেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।