৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
উদ্যোক্তা

পেঁপে ও মাছ চাষে ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা উদ্যোক্তার

এগ্রি বার্তা ডেস্ক ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ৩০ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
পেঁপে ও মাছ চাষে ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা উদ্যোক্তার
ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা। যার সফলতা দেখতে মানুষ এখন আসে সরজমিন দেখতে। বাংলানিউজ ২৪ এর এক প্রতিবেদনে এই সফল উদ্যোক্তার বৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়েছে।  পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে দেশীয় নানা জাতের মাছের চাষ। আর সেই পুকুরের পাড়জুড়ে সারি সারি রেড লেডি জাতের পেঁপে গাছ। মাত্র ছয় মাসেই প্রতিটি গাছে ধরেছে বড় বড় পেঁপে।

একই জমিতে মাছ ও পেঁপের এমন সমন্বিত চাষে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন খাগড়াছড়ির পানছড়ির উদ্যোক্তা ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা।
যেখান থেকে ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা এই চাষির।

পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের চন্দ্রনাথ চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা।

নিজ গ্রামে পাঁচটি পুকুরসহ চার একর জায়গা তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বতি কৃষি প্রকল্প। যেখানে পেঁপে ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়েছে।
পাঁচটি পুকুরে অবমুক্ত করেছেন প্রায় ৪০০ কেজি পোনা মাছ। একইসঙ্গে পুকুরের চারপাশে রোপণ করেছেন প্রায় এক হাজার একশ রেড লেডি জাতের পেঁপের চারা। মাত্র ছয় মাসেই প্রত্যেক গাছে আশানুরুপ ফলন এসেছে। এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে চার লাখ টাকা। পরিচর্যা ও উৎপাদন ঠিক থাকলে পেঁপে ও মাছ বিক্রি করে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা।
ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা বলেন, ইতোমধ্যে শ্রমিকের মজুরি, লিকজ, পেঁপের চারা, মাছের পোনা ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পরিচর্যা ও উৎপাদন ঠিক থাকলে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করতে পারবো বলে আশা রাখি।
তার এই উদ্যোগ নিজের আয়ের স্বপ্নই দেখাচ্ছে না, একইসঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে অনাবাদি ও সীমিত জমিতে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনাও তুলে ধরছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় একই জমি থেকে একাধিক আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। এমনটাই দেখিয়ে দিচ্ছেন এই প্রবীণ চাষি।

পানছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা বলেন, ঈশ্বর চন্দ্র চাকমাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয় তার উদ্যোগ ও আগ্রহ দেখে শুরু থেকে আমি আশাবাদি ছিলাম। পানছড়িতে এভাবে পরিকল্পিতভাবে জলাশয় ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও মাছ বিক্রি করা সম্ভব।

পানছড়ি উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবস চাকমা বলেন, ঈশ্বর চন্দ্র চাকমা শুধু শুধু পেঁপে বিক্রি করেই ৮ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন। প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করায় প্রথম বছরেই তিনি ভালো সাফল্য পেয়েছেন। অন্য বেকার যুবকরাও কৃষিতে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারে বলেও তিনি জানান।

ঈশ্বর চন্দ্র চাকমার সফলতা দেখে বেকার যুবকরাও এগিয়ে আসবে এবং স্বাবলম্বী হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। (সূত্র- বাংলানিউজ২৪)

এগ্রি বার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।