ফরিদপুরে কৃষক মুক্তার মোল্যার পাট চাষ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পাট উৎপাদনের জন্য পরিচিত। প্রতিবছর এই উপজেলায় ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়। এখানকার কৃষকরা সাধারণত ভারতীয় জাতের বীজ ব্যবহার করে পাট আবাদ করেন। তবে গত চার বছর ধরে সালথা উপজেলা সদরের কৃষক মুক্তার মোল্যা নিজস্ব দেশীয় বীজ ব্যবহার করে পাট চাষ করছেন।
মুক্তার মোল্যার এই উদ্যোগের ফলে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ কৃষি উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে পাটের বীজ বপন করেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকালে মুক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “আমাদের এলাকার কৃষকরা ভারতীয় বিভিন্ন জাতের বীজ ব্যবহার করেন, কিন্তু আমি গত চার বছর ধরে সবুজ সোনা-৯ জাতের বীজ উৎপাদন করছি।”
গত বছর মুক্তার ৫০ শতাংশ জমিতে পাটের বীজ চাষ করেছিলেন, যার খরচ হয়েছিল ১০ হাজার টাকা এবং তিনি ২০০ কেজি বীজ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “নিজস্ব উৎপাদিত বীজ দিয়ে আমি ১৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি, যেখানে ১৪ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়েছিল। আমার উৎপাদিত একটি বীজও নষ্ট হয়নি এবং ফলনও ভালো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, "বাকি ১৮৬ কেজি বীজ বিক্রি করে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা আয় করেছি, যা দিয়ে আমি নিজের জমির প্রয়োজন মিটিয়ে ৮ হাজার টাকা লাভ করেছি।" মুক্তার দাবি করেন, “প্রতিবিঘা জমিতে ভারতীয় বীজের জন্য ২ কেজি লাগে এবং অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু আমার উৎপাদিত ১ কেজি বীজ দিয়ে এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করা যায়।”
এবারও তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে পাটের বীজ আবাদের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে গাছ থেকে ফুল আসতে শুরু করেছে। মুক্তার আশা করছেন যে, এই জমি থেকে তিনি এবারও ১৫০ থেকে ১৬০ কেজি বীজ পাবেন। তিনি মনে করেন, যদি অন্য কৃষকরা নিজেরাই বীজ উৎপাদন করেন, তাহলে তারা লাভবান হবেন।
সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন, "মুক্তার মোল্যা পাট গবেষণা থেকে বীজ নিয়ে দেশীয় পাটের উৎপাদন করছেন এবং সালথায় এই বীজের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। যদিও ভারতীয় বীজের তুলনায় দেশীয় এই বীজের চাহিদা কম, তবে কৃষকরা যদি নিজেদের জন্য বীজ উৎপাদন করেন তাহলে তাদের খরচ কমবে এবং ফলনও ভালো হবে।"
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।