১ নভেম্বর ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

উত্তরাঞ্চলে কৃষির নতুন অর্থনৈতিক মানচিত্র

ঢাকা পোস্ট ৩১ অক্টোবর ২০২৬ · ২০ মিনিট পড়ার সময় · ২২ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
উত্তরাঞ্চলে কৃষির নতুন অর্থনৈতিক মানচিত্র
উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে একাধিক স্থানে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ উদ্যোগের সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা উঠে এসেছে। এর মধ্যে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের তারাপানি মৌজায় এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভায় কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির জন্য সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পকারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনামূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষসহ (বেপজা) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায়, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে ‘কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠন করাকে অধিক কার্যকর বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভার কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে জয়পুরহাট ও বগুড়ার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিপণ্য উৎপাদন, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ দুটি জেলাকে কেন্দ্র করে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

জয়পুরহাট দীর্ঘদিন ধরেই কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে পরিচিত। এ জেলার অর্থনীতির বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান, আলু, ভুট্টা, সরিষা, শাকসবজি এবং বিভিন্ন মৌসুমি কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জেলার কৃষকরা জাতীয় কৃষি অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কৃষিপণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি এসব পণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে আরও গতিশীলতা আসতে পারে। বিশেষ করে আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যকে কেন্দ্র করে আধুনিক সংরক্ষণাগার, বাছাই ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, প্যাকেজিং কারখানা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে উৎপাদনস্থলের কাছাকাছি এসব সুবিধা তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা, অপচয় কমানো এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের মান নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের তারাপানি মৌজাকে প্রাথমিকভাবে সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তাবিত জমির তথ্য পাঠিয়েছে। এ কারণে ওই স্থানে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। জেলাটির কৃষি উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং যোগাযোগসুবিধা কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। ধান, আলু, ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণনের ক্ষেত্রেও বগুড়ার ভূমিকা রয়েছে।

বগুড়ার কৃষির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃষির সঙ্গে ব্যবসা ও শিল্পের সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা। কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা গেলে কাঁচামালের স্থানীয় চাহিদা তৈরি হবে। একই সঙ্গে কৃষক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক ও শিল্পকারখানার কর্মীদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ স্থান সম্পর্কে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য জেলা প্রশাসনকে পাঠাতে বলা হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উৎপাদন থেকে রপ্তানি-এক ছাতার নিচে কৃষির সব কার্যক্রম

কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মূল লক্ষ্য শুধু জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন নয়, বরং কৃষির সঙ্গে শিল্প, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সংযোগ তৈরি করা। বর্তমানে কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত। কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখানে কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বাছাই, আধুনিক হিমাগার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, প্যাকেজিং, পরীক্ষাগার, মান নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানিসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এর ফলে কাঁচা কৃষিপণ্য বিক্রির পরিবর্তে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে অধিক মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে। উদাহরণ হিসেবে আলু থেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, ফল থেকে জুস ও পাল্প, শাকসবজি থেকে হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্য থেকে রপ্তানিযোগ্য খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের শিল্পের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নিয়মিত কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে। ফলে কৃষকদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ, মানসম্মত বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহারও উৎসাহিত হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ইপিজেড নয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত

সভায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

কৃষিসচিব মো. সেলিম খান সভায় উল্লেখ করেন, কৃষি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে ৯০ শতাংশ পণ্য রপ্তানির বাধ্যবাধকতা থাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সভায় উপস্থিত সদস্যরাও এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রস্তাবিত অঞ্চলগুলোতে শুধু রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণ এবং রপ্তানি-উভয় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বিবেচনায় আসবে।

সভায় ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) সালেহ আহমেদ বলেন, প্রাপ্ত জমির তালিকার ভিত্তিতে চূড়ান্ত স্থান নির্বাচনের আগে প্রস্তাবিত জমিগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এ জন্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) অথবা মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গেল সোর্স পদ্ধতিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রস্তুত করে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে।

পঞ্চগড়সহ অন্য জেলাও বিবেচনায়

কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুধু জয়পুরহাট ও বগুড়ায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। উত্তরাঞ্চলের একাধিক উপযুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ লক্ষ্যে জয়পুরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার জমিসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে কিছু জেলা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাওয়া গেছে।

পঞ্চগড় জেলায় ইতোমধ্যে তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বর্তমানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া ২১৭ দশমিক ৭৮ একর অকৃষি খাসজমি রয়েছে। ওই জমিতে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের লিখিত সম্মতি চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে জয়পুরহাট ও বগুড়ার সম্ভাব্য স্থানগুলোর পাশাপাশি পঞ্চগড়ের জমিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার উপযুক্ত স্থানগুলোও এ পরিকল্পনার আওতায় আসতে পারে।

বাস্তবায়নের আগে বড় পরীক্ষা সম্ভাব্যতা যাচাই

কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রস্তাবিত স্থানগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই। জমির পরিমাণ ও মালিকানা, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের প্রাপ্যতা, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্যের সরবরাহ, বাজারের অবস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা-সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এ যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া কোন স্থানে কী ধরনের কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা সবচেয়ে লাভজনক হবে, সে বিষয়েও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে জয়পুরহাট ও বগুড়ার কৃষিপণ্যের ধরন, উৎপাদনের পরিমাণ, মৌসুমি সরবরাহ এবং সম্ভাব্য রপ্তানি বাজার বিশ্লেষণ করে শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা জরুরি।

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের লক্ষ্যে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) প্রস্তুত করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ কাজে ইনভেস্ট বাংলাদেশ সার্বিক সহযোগিতা করবে। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রকল্পের আর্থিক, কারিগরি ও পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে ডিপিপি প্রস্তুত করা হবে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবসম্মত স্থান নির্বাচন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং কৃষকের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগের প্রাথমিক অগ্রযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি শুধু উৎপাদননির্ভর অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও রপ্তানির নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে কৃষিসচিব মো. সেলিম খান  বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চলে কৃষি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুশাসন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তারাপানি মৌজা এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভাকে সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ দুটি স্থানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার উপযুক্ত স্থানগুলোও বিবেচনায় রয়েছে। এ কারণে জমি চূড়ান্ত করার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, অবকাঠামোগত সুবিধা, কৃষিপণ্যের প্রাপ্যতা, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় টার্মস অব রেফারেন্স প্রস্তুত করবে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ এ কাজে সহযোগিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য শুধু কয়েকটি শিল্পকারখানা স্থাপন করা নয়, বরং কৃষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও রপ্তানিকারকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষির বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

ঢাকা পোস্ট

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।