বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মুরগির বাচ্চা বিতরণ
বন্যার্ত অঞ্চলে বানভাসী মানুষের পূনর্বাসনের উদ্দেশ্যে তাদের মাঝে মুরগির বাচ্চা বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ১১ টা থেকে বন্যাকবলিত কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার তারাশাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওই মুরগির বাচ্চা বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার তারাশাইল গ্রামের ৭২ জন বানভাসী পরিবারের মাঝে ৩৬০ টি সোনালি জাতের মুরগির বাচ্চা বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক খামারিকে ৪ টি মুরগি ও একটি করে মোরগের বাচ্চা প্রদান করা হয়। বাকৃবি ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠন এনিম্যাল সেভিয়র বাকৃবির ব্যানারে ওই মুরগির বাঁচ্চা বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপের অধ্যাপক ওকাবায়েসি ক্যুনায়েকি, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মো. লাভলু মিয়া এবং স্থানীয় জনতা।
এবিষয়ে মুরগির বাচ্চা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণকারী বাকৃবি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ডাঃ মাশশারাত মালিহা বলেন, যে কোনো দুর্যোগেরই পরবর্তী সময়টা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এ ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আমরা বন্যার্ত খামারিদের মাঝে মুরগির বাচ্চা বিতরণ করি। বাকৃবি ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে নেয়া এ কার্যক্রমে আমরা বাকৃবির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের সন্তানদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পেয়েছি। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের এ উদ্যোগ খুব সামান্য, কিন্তু আমরা চাই এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র। যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিও যেন সেবা পায়, তাদের জন্য নির্মাণ হোক আশ্রয়কেন্দ্র, এমনকি দুর্যোগের পর পশুপাখির জন্যও খাবার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়। খামারিরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এজন্য সরকারি, বেসরকারি সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এককালীন বা দীর্ঘমেয়াদি অনুদনা প্রদানের প্রস্তাব রাখছি।
বাকৃবির আরেকজন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ডাঃ মো.উমর ফারুক বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় পুনর্বাসনে আমরা কুমিল্লার কনকাপৈত ইউনিয়নের তাড়াশাইলে ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র খামারি নারীদের মাঝে মুরগি বিতরনের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। এতে আমরা ৭২ টি পরিবারের নারী সদস্যকে ৪ টি মুরগি ও একটি মোরগ প্রদান করা হয়। যা অপ্রতুল। আমাদের এই স্বল্প প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে কুমিল্লার নারীদের সাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। এসব মুরগী পালনের মধ্য দিয়ে সেই এলাকার জীববৈচিত্র যেমন রক্ষা পাবে একই সাথে সেইসব পরিবারের ডিম ও মাংসের চাহিদা মিটবে। আমারা ভবিষ্যৎ কার্যক্রম হিসেবে ফান্ডের বিবেচনায় গবাদিপশু, খাবার ও খামারিদের অন্যান্য প্রয়োজনে এগিয়ে আসবো।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।