২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
ক্যাম্পাস

বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে বাকৃবিতে ২,৫০০ শিশুকে দুধ পান করানোর পরিকল্পনা

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি ৩১ মে ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে বাকৃবিতে ২,৫০০ শিশুকে দুধ পান করানোর পরিকল্পনা

দেশে ডেইরি শিল্পের বিকাশ এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৩তম বারের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবিত) ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস’ পালিত হবে। আগামী ১জুন (রবিবার) দিবসটি উদযাপনের জন্য মূল প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘আসুন দুগ্ধশিল্প এবং দুধের প্রভাব উদযাপন করি’। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাকৃবির ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত স্কুলসমূহের ২ হাজার ৫০০  জন শিশুকে দুধ পান করানো হবে।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৫ উদযাপনের প্রাক্কালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বাকৃবির ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম।

অধ্যাপক ড আশিকুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ২৫০ মিলি লিটার দুধ প্রয়োজন। সেখানে আমাদের প্রাপ্যতা মাত্র ২৩৫ মিলি লিটার। দেশে বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধের প্রয়োজন হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও দেশে তরল দুধের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি স্থায়ীভাবে পূরণ করতে হলে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

দুধের উৎপাদন প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে অধ্যাপক আশিকুর রহমান জানান, প্রতি বছর দেশে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করতে হয়। দুধের উৎপাদন ঘাটতির পেছনে নানা ধরনের সমস্যা জড়িত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভালো জাতের দুধেল গাভীর অভাব, গো-খাদ্যের স্বল্পতা ও উচ্চ মূল্য এবং দুধ বাজারজাতকরণের জটিলতা। গত কয়েক বছর ধরে দেশে দুধের উৎপাদন বাড়লেও দুধ পানের আগ্রহ তেমন বাড়েনি। ফলে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও দুধ কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই দুধের উৎপাদন বাড়াতে হলে দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এছাড়াও, দুধ পানের উপকারিতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে এবং ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দুধ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ খাবার। খাদ্যের সব পুষ্টি উপাদান দুধে বিদ্যমান থাকায় এটিকে সুষম খাদ্যও বলা হয়। দুধে থাকা ল্যাকটোজ শিশুদের মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকোষের বর্ধনে সহায়তা করে। জন্মের সময় মানব শিশুরা মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ গঠন সম্পন্ন করে আসে। বাকি ২০ শতাংশ পরবর্তী ১৫-১৬ বছরে ধীরে ধীরে গঠিত হয়। তাই শৈশবে মস্তিষ্কের বিকাশে দুধের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যে জাতি যত বেশি দুধ পান করে, সে জাতি তত বেশি মেধাবী হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উদ্যোগে সর্বপ্রথম ২০০১ সালে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, বাকৃবি প্রতিনিধি

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।