২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
ক্যাম্পাস

‘আমরা গড়ি কৃষির ভবিষ্যৎ’- কৃষি প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৬ মে ২০২৫ · ৮ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
‘আমরা গড়ি কৃষির ভবিষ্যৎ’- কৃষি প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের অনুভূতি

নিজেকে গড়ে তোলার দারুণ একটি ক্ষেত্র

ছোটবেলা থেকেই প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন ছিল। বুয়েট মিস করলেও কৃষি গুচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইবি স্বীকৃত কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ রয়েছে। এই বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে, যা আমাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। আমার প্রিয় কোর্স সার্ভেয়িং, যেখানে হাতে-কলমে শিখি মাঠে কাজ করার নানা দিক। ল্যাব ও মাঠে কাজের অভিজ্ঞতাও দারুণ, দলগত কাজ ও বাস্তব চর্চার সুযোগ মেলে। আমি ভবিষ্যতে ‘প্রিসিশন ফার্মিং’ নিয়ে কাজ করতে চাই, যাতে কৃষকের খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যায়। যদিও এই বিভাগ এখনো সবার কাছে খুব বেশি পরিচিত নয়, তবে গ্লোবালি ভাবার সুযোগ এবং শিক্ষকদের সহায়তায় নিজেকে গড়ে তোলার দারুণ একটি ক্ষেত্র এটি।’

  • সাবিদুর রহমান সেজান, শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ।

আমার লক্ষ্য পূরণে যথাযথ সাহায্য করে যাচ্ছে

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ, তবু এ দেশ এখনো কৃষি প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে আছে। দেশের কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তির সংযোজন ঘটানোই আমার কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে পড়ার একমাত্র কারণ। আমরা জীবনের প্রতিটি জায়গায়ই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে থাকি, নিঃসন্দেহে যার অবদান অনন্য। আমার প্রিয় কোর্স হলো ওয়ার্কশপ টেকনোলজি যেখানে আমাদেরকে হাতে কলমে কৃষিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং মেশিন সম্বন্ধে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এগুলোর যথাযথ ব্যবহার শেখানো হয়। যা আমাদের কৃষিকে আরো ভালোভাবে জানতে সাহায্য করে। ভবিষ্যতে আমি নিজেকে একজন দক্ষ কৃষি প্রকৌশলী হিসেবে দেখতে চাই। কৃষির পাশাপাশি দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন স্তরে কৃষি প্রযুক্তির অবদান ছড়িয়ে দিতে চাই। এভাবে কৃষিকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব আমি মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিভাগ আামাকে আমার লক্ষ্য পূরণে যথাযথ সাহায্য করে যাচ্ছে। তবে এর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যেমন ল্যাব এ শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির সল্পতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব বলে মনে করি।

  • সাদিয়া শারমিন মিথিলা, শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ।

এই সেক্টরকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই

বাবা-মা ডাক্তার হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই মনে হতো ডাক্তার হবো কিন্তু বরাবর অংকে ভালো ছিলাম। স্বনামধন্য বেসরকারি মেডিকেলে না পড়ে ১২৭১ স্থান অর্জন করেও প্রথম পছন্দে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইবি স্বীকৃত কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে ভর্তি হওয়া। বরাবরই আমার চাপ ছাড়া পড়তে ভালো লাগে না। তাই বাকৃবির ডিভিএম আর কৃষি প্রকৌশল ছাড়া অন্যান্য অনুষদে তুলনামূলক চাপ কম থাকা সত্ত্বেও এই অনুষদ পছন্দ করা। স্থানীয় হওয়ায় এখানে পড়া আমার জন্য আরো সুবিধাজনক। সার্ভেয়িং আমার অনেক পছন্দের একটি কোর্স। ভবিষ্যতে আমি ফার্ম মেকানাইজেশন নিয়ে কাজ করতে চাই। যদিও ক্ষেত্রটি নতুন কিন্তু এবিষয়ে পড়াশোনা করে আমি আমার অনুষদকে ও এই সেক্টরকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

  • রাইহা নূর রায়হান, শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ।

কৃষির ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া সম্ভব

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে ভর্তির পেছনে আমার প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দেশের কৃষি খাতকে আরো উন্নত, কার্যকর এবং টেকসই করা। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম কীভাবে কৃষকরা নানা সমস্যার মুখে পড়ে। সঠিক যন্ত্রের অভাব, সেচ ব্যবস্থার জটিলতা কিংবা ফসল সংরক্ষণে সমস্যায় পড়েন। আমি চেয়েছিলাম এমন একটি জায়গায় কাজ করতে, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব সমস্যার বাস্তব সমাধান দেওয়া যায়। এই অনুষদের প্রতিটি কোর্সই বাস্তবমুখী ও ব্যবহারিক। আমার প্রিয় কোর্স ‘ফার্ম মেকানাইজেশন’, কারণ এটি শুধু তত্ত্ব নয়, হাতে-কলমে শেখায় কীভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করা হয়। ল্যাব ও মাঠে কাজ করার সময় বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়েছে। কখনো ট্র্যাক্টর চালানো, কখনো মাটি বিশ্লেষণ বা সেচ ব্যবস্থার ডিজাইন, এসব কাজ আমাকে আরো আগ্রহী করে তুলেছে। আমি বর্তমানে একটি প্রজেক্টে কাজ করছি যেখানে স্বল্প খরচে অটোমেটেড সেচ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে স্মার্ট কৃষি ও টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে, এবং এই বিভাগ সেই স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো গবেষণায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা ও শিল্প খাতের সঙ্গে সংযুক্তির অভাব, যা উন্নয়নকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করে। তবুও আমি আশাবাদী, এই বিভাগ থেকেই কৃষির ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া সম্ভব।

  • মাহফুজুল আলম আহাদ, শিক্ষার্থী, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।