২১ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
মৎস্য

হাওরে দেশি মাছের সংকট, বাজার দখলে হাইব্রিড

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২১ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
হাওরে দেশি মাছের সংকট, বাজার দখলে হাইব্রিড

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা একসময় হাওরের দেশি মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। তবে আজ সেই চিত্র বদলে গেছে। ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন দেশি প্রজাতির মাছের পরিবর্তে জায়গা দখল করেছে পুকুরে চাষ করা পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্পসহ হাইব্রিড মাছ।

জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার কিংবা গ্রামীণ হাট—সব জায়গাতেই চাষের মাছের আধিপত্য। দেশি মাছ পাওয়া গেলেও তা এতটাই দুষ্প্রাপ্য ও দামি যে সাধারণ মধ্যবিত্ত বা নিম্নআয়ের মানুষদের তা কেবল স্বপ্নে ধরা দেয়।

দাম বাড়ার তালিকায় আছে গরিবের মাছ খ্যাত পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া। একসময় ১২০-১৪০ টাকায় পাওয়া যেত যে তেলাপিয়া, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। একইভাবে পাঙ্গাশের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ফলে দিনমজুর, কৃষক, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে এই মাছ কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

কেন এমন সংকট? স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ক্রেতাদের মতে, হাওরের বিল-ডোবা—যেখানে একসময় সাধারণ মানুষ মাছ ধরতে পারত—সবই এখন সরকারি ইজারার আওতায়। এসব ইজারা নিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা, যারা মাছ রক্ষা তো দূরের কথা, ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বিল শুকিয়ে রাতারাতি মাছ তুলে ফেলছেন। তারপর সেই মাছ চলে যাচ্ছে বাইরের পাইকারদের কাছে।

মৎস্যজীবী দেবল পাল বলেন, "জলমহালগুলো যখন শুকিয়ে ফেলা হয়, তখন মা মাছ, পোনা, সব ধ্বংস হয়। বংশবৃদ্ধির সুযোগ না দিয়েই মাছ শেষ করে দেওয়া হয়।" অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছে, হাওরে মাছ ধরার মতো জায়গাই নেই এখন, কারণ সবখানে পাহারাদার বসানো থাকে।

পরিবেশবিদ ও মৎস্য গবেষকদের মতে, জলাশয় ভরাট, পোনা মাছ ধরা, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, অপরিকল্পিত বাঁধ, বর্ষায় মাছের প্রজননে বাধাসহ নানা কারণে হাওরের প্রাকৃতিক মাছ বিলুপ্তির পথে। প্রায় ১০০ প্রজাতির দেশি মাছ এখন হুমকির মুখে।

একসময় জামালগঞ্জ থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দেশি মাছ রপ্তানি হতো। তা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু আজ হাওরের সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এখনই যদি পরিকল্পিতভাবে জলমহাল ব্যবস্থাপনা, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ এবং দেশি মাছ সংরক্ষণের পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হাওর বলতে কেবল থাকবে পানি—মাছ থাকবে না। হাওরের প্রাণ দেশি মাছকে বাঁচাতে চাই নিয়মিত তদারকি ও সচেতন উদ্যোগ। জনসম্পৃক্ত না হলে হাওরের জীববৈচিত্র্য হারানোর ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।