২০ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
প্রাণীসম্পদ

চকরিয়া উপকূলে চারণভূমির সংকট, কমছে পশুপালন

সমকাল ৩০ এপ্রিল ২০২৪ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
চকরিয়া উপকূলে চারণভূমির সংকট, কমছে পশুপালন

এক সময় মহিষ ও ভেড়ার অভয়ারণ্য ছিল কক্সবাজার উপকূলের ‘চকরিয়া সুন্দরবন’। এই বনের অস্তিত্ব অনেকটা বিপন্ন হয়ে গেছে। এখন তেমন কোনো প্যারাবন নেই বললেই চলে। যেদিকেই চোখ যায় শুধু চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না। চিংড়ি ঘের তৈরির নামে প্যারাবন নিধন অব্যাহত রেখেছে দখলদাররা। এতে চারণভূমির সংকট তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া ডাকাতের হানায় চকরিয়া উপকূলে মহিষ ও ভেড়া পালন আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।

জানা যায়, কক্সবাজার বন বিভাগের মালিকানাধীন ৪৫ হাজার একর প্যারাবন নিয়ে চকরিয়ার সুন্দরবন অবস্থিত ছিল। এক সময় এই সুন্দরবন রেঞ্জের বিপরীতে তিনটি বন বিট ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাগজে-কলমে ছাড়া বন বিটের কোনো অস্তিত্ব নেই। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার একটি মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্যারাবন উজাড় ও ঘের দখল অব্যাহত রেখেছে দখলদাররা। 

বন বিভাগের চলতি দায়িত্বে থাকা ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দীন জানান, চকরিয়া সুন্দরবন ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সুন্দরবন। এখানে ছিল শত শত প্রজাতির বন্যপ্রাণী। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা অবাধে মহিষ ও ভেড়া পালন করতেন। কিন্তু ১৯৭৭ সালের দিকে ৩৯টি চিংড়ি ঘের লিজের মাধ্যমে শুরু হয় প্যারাবন নিধন কার্যক্রম। বন বিভাগ এসব ভূমির সিংহভাগ মৎস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে। 

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বহালতলী, চরণদ্বীপ, রিংভং, সগীরশাহ কাটা, পালাকাটা, রামপুর মৌজার বেশির ভাগ প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের তৈরি হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব আয় ও চিংড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও ধ্বংস হয়ে যায় চকরিয়া সুন্দরবন। হুমকির মুখে পড়ে জীববৈচিত্র্য। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি থেকে উপকূলীয় মানুষকে রক্ষার একমাত্র প্রাকৃতিক বেষ্টনী নষ্ট হয়ে যায়।

পরে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ ও চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ রামপুর মৌজার চিলখালী, গুলদিয়ায় বনায়ন করা হলেও দখলদাররা প্যারাবন নিধন অব্যাহত রাখে। তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হলেও কোনো কাজ হয়নি। এতে গবাদি পশু লালন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আগে যেখানে হাজার হাজার মহিষ-ভেড়া বিচরণ করতে দেখা যেত, বর্তমানে পাঁচ শতাধিক মহিষ-ভেড়াও চোখে পড়ে না। 

ওই এলাকার চিংড়ি চাষি কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য আবু তৈয়ব বলেন, চকরিয়া উপকূলে ডাকাতরা রাতের আঁধারে নৌকা ভর্তি করে ঘের মালিকদের জিম্মি করে মহিষ-ভেড়া লুট করে নিয়ে যায়। এতে গবাদি পশু পালন হুমকির মুখে পড়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কেউ থানায় এলে আইনগত সহায়তা দেওয়া হয়। ডাকাতের অভয়ারণ্যে অভিযান চালিয়ে অসংখ্য মহিষ-ভেড়া উদ্ধার করে মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনাও রয়েছে। 

চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিন বলেন, উপকূলে চারণভূমির সংকট দেখা দিয়েছে। আর চোর-ডাকাতের উৎপাত তো রয়েছেই। 

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দিন বলেন, চকরিয়া সুন্দরবনের প্যারাবন রক্ষায় কাজ হচ্ছে। যদিও পুরো সুন্দরবনে মাত্র দুটি সুন্দরী গাছ অবশিষ্ট রয়েছে। নতুনভাবে সুন্দরী গাছ রোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

সমকাল

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।