২১ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
ক্যাম্পাস

বাকৃবিতে উন্নয়নের আড়ালে পরিবেশ ধ্বংস

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১ জানুয়ারি ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বাকৃবিতে উন্নয়নের আড়ালে পরিবেশ ধ্বংস

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে উন্নয়নের নামে অব্যাহতভাবে চলছে পরিবেশ ধ্বংস। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, বৃক্ষ নিধন, এবং প্রকৃতি অবহেলার ফলে ধ্বংস হচ্ছে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি এখন রয়ে গেছে শুধুই কথার মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বারের মোড় পেরোলেই দেখা যেত মনোমুগ্ধকর আমবাগান, যা বর্তমানে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। আমবাগানের আশপাশে ভবন নির্মাণের কারণে গাছের গোড়ায় ফেলা হয়েছে অনুর্বর বালি। পাশাপাশি বহু গাছের ডালপালা ছাঁটাই করে মৃতপ্রায় করে ফেলা হয়েছে।

সেখানে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আমবাগানের দেড় শতাধিক গাছের মধ্যে প্রায় ৩০টির শাখা-প্রশাখা ছাঁটাই করে সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। পুরো এলাকাটি এখন মরুভূমির মতো ধূসর ও প্রাণহীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এলাকাতেও দেখা যায় দোকানপাট স্থানান্তরের নামে বিশাল পরিমাণ গাছ কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, সেখানে ২৩টি বড় কড়ই গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনা একক নয়। এর আগে ক্যাম্পাসজুড়ে চার লেনের রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অসংখ্য বৃক্ষ কেটে ফেলা হয়েছে। ভেটেরিনারি অনুষদের সামনে ৪০ বছরের পুরোনো কৃষ্ণচূড়া, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের দেবদারু, এবং কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জারুলসহ বহু বৃক্ষ এই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় ‘গ্রীন বয়েস’ নামে একটি সংগঠন ২৩ দফা দাবি পেশ করেছে। তারা পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একটি ‘পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রীন বয়েসের বকুল আলী জানান, "দোকানপাট স্থানান্তর ও সংস্কারের নামে গাছ কাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। পরিবেশ রক্ষায় একটি কমিটি গঠন এবং গাছ কাটার আগে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।"

ক্যাম্পাসের একজন শিক্ষার্থী কাওছার আহম্মেদ মিজান বলেন, "এই ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের ফলে এখন সেই সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে।"

আরেক শিক্ষার্থী মো. রাশেদ হোসাইন জানান, "আমাদের ক্যাম্পাসের প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রকৃতি। পাখির কূজন আর বৃক্ষের সুশীতল ছায়া এখন ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।"

ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক জানিয়েছেন, পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বৃক্ষ নিধন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।