হালদায় থামছে না মাছ শিকার
হালদা নদী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র, গত কয়েক বছর ধরে মা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান চললেও পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে না। লাখ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হচ্ছে এবং নৌযান আটক করা হচ্ছে, কিন্তু শিকারীরা তাদের কার্যক্রম থামাচ্ছে না।
হালদা নদীতে শুধু পেশাদার মৎস্যজীবীরাই নয়, বরং বিভিন্ন পেশার লোকজনও অতিরিক্ত আয়ের জন্য মাছ শিকারে জড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও মাছ শিকারের জন্য বিনিয়োগ করছেন। নদী তীরের মানুষের সচেতনতার অভাব, মাছ শিকারের লোভ এবং মৎস্যজীবীদের বিকল্প জীবিকার অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।
হালদা নদীর প্রজনন মৌসুমে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত, মা মাছেরা ডিম ছাড়তে নদীতে আসে। এ সময় ডিম সংগ্রহকারীরা নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করতে থাকেন। কিন্তু চোরা শিকারীদের তৎপরতা বাড়তে থাকে, যা মাছের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ এবং মৎস্য বিভাগ মাছ শিকার বন্ধে অভিযান চালালেও বর্তমানে সেগুলো চোখে পড়ছে না।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে হাটহাজারীর ইউএনও মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১৭৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার ৪০০ মিটার ঘেরা জাল জব্দ করা হয়েছে। নৌ পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তারা ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৬২০ মিটার জাল জব্দ করেছে।
হালদা পাড়ের বর্ষীয়ান মৎস্যজীবী কামাল সওদাগর জানান, অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করতে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, "অনেকেই অভাবে জাল মারেন এবং কেউ কেউ শখের বশে মাছ ধরেন।" তিনি আরও বলেন, “যারা নদীর উপর নির্ভরশীল, তারা মাছ না মারলে কিভাবে চলবে? তাদের কান্না কেউ বুঝতে চায় না।”
হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, "কিছু অপ্রফেশনাল লোক আছে যারা একটি মাছের জন্য হাজার হাজার মিটার জাল ব্যবহার করে।" হালদা থেকে ধরা হওয়া এসব মাছ নগরীর বড় বাজারে বিক্রি হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চড়া দামে পৌঁছায়।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।