শীতকালীন লাউ চাষের সহজ পদ্ধতি
লাউ, যা শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে সারাবছর চাষ করা হচ্ছে। এটি সাধারণত শীতকালে বসতবাড়ির আশপাশে চাষ করা হয় এবং এর পাতা ও ডগা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। লাউয়ের বিভিন্ন জাত রয়েছে, যা আকার-আকৃতি এবং গাছের লতানোর পরিমাণের ভিত্তিতে আলাদা করা যায়।
বাংলাদেশে উন্নত কিছু লাউয়ের জাত রয়েছে, যার মধ্যে "বারি লাউ-১" উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৬ সালে উদ্ভাবিত এই জাতটি সর্বত্র চাষাবাদের জন্য অনুমোদন পায়। এর পাতা সবুজ ও নরম, এবং পুরুষ ও স্ত্রী ফুল যথাক্রমে চারা রোপণের ৪০-৪৫ দিন এবং ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ফুটে। এই জাতের ফল হালকা সবুজ এবং দৈর্ঘ্যে ৪০-৫০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে, যার প্রতি ফলের ওজন ১.৫-২.০ কেজি। প্রতি গাছে ১০-১২টি ফল ধরে।
লাউ চাষের জন্য পলিথিন ব্যাগে চারা তৈরি করা ভালো, কারণ এতে বীজের খরচ কম পড়ে। পলিথিন ব্যাগে চারা উৎপাদন করে রোপণ করলে হেক্টর প্রতি ৮০০-১০০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। এছাড়া মাটি দিয়ে মাদা তৈরি করেও চারা উৎপাদন করা যায়।
বসতবাড়ির আশপাশে যেমন গোয়াল ঘরের কিনারায় বা পুকুর পাড়ে লাউ গাছ লাগানো হয়, তেমনই বেশি পরিমাণ জমিতে লাউয়ের চাষ করতে হলে জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করতে হবে। লাউ চাষের জন্য ২×২ মিটার দূরত্বে প্রতি মাদায় ৪-৫টি বীজ বোনা উচিত।
গাছ যখন ১৫-২০ সেন্টিমিটার বড় হয়, তখন গাছের গোড়ার পাশে বাঁশের ডগা বা কঞ্চি পুঁতে দিতে হয়। লাউ গাছের জন্য নিয়মিত পানি দিতে হবে এবং প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
লাউয়ের উৎপাদনে কিছু রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হতে পারে, যেমন রেডপামকিন বিটল পোকার আক্রমণ। এ পোকা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বারি লাউ-১ এর চারা রোপণের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে প্রথম ফল সংগ্রহ করা যায়। ফল তোলার উপযুক্ত সময় হলো যখন ফলের গায়ে প্রচুর শুঁটির উপস্থিতি থাকে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।