বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে জারবেরা ফুল
বগুড়ার কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ফুল চাষে। নব্বইয়ের দশকে বগুড়া শহরের খোকন পার্কের সামনে কিছু ব্যবসায়ী গোলাপ ফুল বিক্রি শুরু করার পর থেকে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০০০ সালের দিকে এসে ফুলের চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যায়, যার ফলে মহাস্থানগড়, শিবগঞ্জ, গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলায় গোলাপ ও গাঁদা ফুলের চাষ শুরু হয়। সম্প্রতি, বগুড়ায় জারবেরা ফুলের চাষও শুরু হয়েছে।
সদর উপজেলার সাবগ্রাম ইউনিয়নের গোবরধনপুর গ্রামের আফছার আলী ২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে জারবেরা ফুল চাষ শুরু করেন। তিনি টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এক বিঘা জমিতে বিভিন্ন রঙের জারবেরা ফুলের চাষ করেন। তিন মাসের মধ্যে প্রথম সফলতা পেয়ে, দুই বছরে তার ৮ লাখ টাকা খরচ হলেও ফুল বিক্রি করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় করেছেন।
আফছার আলী জানান, তিনি রঙ অনুযায়ী চারাগুলো আলাদা সারিতে রোপণ করেছেন এবং জারবেরা চাষে খরচ বেশি হলেও লাভও বেশি। পলিশেডে খরচ পড়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা, তবে এটি পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে। তিনি বলেন, “বাজারে বেদানার চাহিদা প্রচুর এবং দামও ভালো।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এম এম শাহ নেওয়াজ জানান, "এই অঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল ভারতীয় পাইজাম ধানের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কৃষকরা আগামীতে আরও বেশি বিদেশি ফল ও ফুলের চাষে আগ্রহী হবেন।
এদিকে, স্থানীয় কৃষকরা জানান যে, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি প্রদান করলেও পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন আঞ্চলিক জটিলতার কারণে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক তাদের কাছে পৌঁছানোর সময় দাম বেড়ে যায়। তারা সরকারের কাছে সারের মূল্য স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।