২৩ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

দেশি জাতের ধানের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার হচ্ছে

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৬ নভেম্বর ২০২৪ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
দেশি জাতের ধানের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার হচ্ছে

মাধবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে সুগন্ধি জাতের ধান চাষের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা নিজ উদ্যোগে সুগন্ধি ধানের বীজ সংগ্রহ করে এ জাতের ধান চাষে এগিয়ে এসেছেন, যার ফলে তারা বাজারে উচ্চ মূল্যে সুগন্ধি চাল বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এ ধান কিনছেন।

এক সময় কৃষকরা স্বল্প পরিসরে নিজেদের চাহিদা মেটাতে সুগন্ধি ও বিরুণ ধান চাষ করতেন, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দেশি জাতের বীজ বিলুপ্ত হতে শুরু করে। তবে বর্তমানে সুগন্ধি চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা বড় পরিসরে ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের কৃষক বধু মিয়া জানান, গত ৫-৬ বছর ধরে তারা চিনিগুড়া, কালোজিরা, কাটারিভোগ, তুলশীমালা, বাঁশফুল, বেগুনবিচি, চিনিশাইল, গোবিন্দভোগ ও দুধশাইলসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করছেন। স্থানীয় বাজার থেকে সুগন্ধি জাতের ধান বীজ সংগ্রহ করে তারা চাষাবাদ করেছেন।

আগে কৃষকরা নিজেদের জন্য সুগন্ধি জাতের ধান চাষ করতেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য সুগন্ধি ভাত প্রস্তুত করতেন। বর্তমানে বাজারে এ জাতের চাল ব্যবসায়ীরা প্যাকেট করে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

আন্দিউড়া ইউনিয়নের কৃষক মুর্শেদ মিয়া বলেন, জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে কৃষকরা এখন জমি কম পাচ্ছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে, এবার আমন মৌসুমে তারা প্রচুর পরিমাণ সুগন্ধি জাতের ধান চাষ করেছেন। এ চালের চাহিদা দেশে-বিদেশে বেড়েছে, তাই কৃষকরা দিন দিন সুগন্ধি ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, ভোক্তা পর্যায়ে সুগন্ধি জাতের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা এখন এই জাতের ধান চাষ করতে উৎসাহী হয়েছেন। এবারের আমন মৌসুমে উচ্চফলনশীল ধানের পাশাপাশি প্রচুর সুগন্ধি জাতের ধানও চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের দেশি জাতের বীজ নিরাপদে সংরক্ষণ করতে মৌলিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।