২৩ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ফুলকপি চাষিদের বিপদে ফেলেছে কীটনাশক ব্যবহার

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২০ নভেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ফুলকপি চাষিদের বিপদে ফেলেছে কীটনাশক ব্যবহার

রাজশাহীর দুর্গাপুরের ফুলকপি চাষিরা জমিতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করে বিপাকে পড়েছেন। গগনবাড়িয়া এলাকার বেশ কিছু কৃষকের ফুলকপি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছেন। ঋণগ্রস্ত কৃষকরা এখন চিন্তিত, কিভাবে কিস্তি শোধ করবেন।

এলাকার কৃষকরা সাধারণত একবার জমি লিজ নিয়ে তিন ফসল উৎপাদন করেন। এই মৌসুমে তারা ১৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন, যেখানে প্রতি বিঘার জন্য ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম, একজন অভিজ্ঞ কৃষক, ১৮ বছর ধরে কৃষিকাজ করছেন এবং দুই এনজিও থেকে আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। প্রথমে সবজি ও করলা থেকে লাভ হলেও এবার ফুলকপিতে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি জানান, এই প্রথম তার এত বড় ক্ষতি হয়েছে। ঋণের টাকা দিয়ে তিন বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেছিলেন, যেখানে করলা চাষে প্রতি বিঘায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং বিক্রি থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। কিন্তু ফুলকপির ক্ষেত্রে তার ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা।

এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে নিউজিম নামের ছত্রাকনাশকের কারণে তাদের ফুলকপি নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিপূরণের দাবি জানালে কোম্পানির লোকজন বিঘাপ্রতি ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হন, কিন্তু পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বাজার থেকে ওই লটের বিষ সরিয়ে ফেলেন।

কৃষকরা বিষয়টি স্থানীয় কৃষি অফিসকে জানালে কর্মকর্তারা মাঠে এসে মাটি ও ফসল পরীক্ষা করেন এবং বিষের কারণে ক্ষতির কথা বলেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, কৃষি কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে। কৃষকরা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

হযরত আলী নামের এক কৃষক বলেন, “আমরা বাড়িতে থাকতে পারছি না, সংস্থার লোকজন এসে তাড়াচ্ছে।” সেকেন্দার নামের আরেক কৃষক জানান, “১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং সবাই ঋণ নিয়ে ফসল করেছি।”

শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ৭ লাখ টাকার লাভ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সব নষ্ট হয়ে গেছে।” ব্লেসিং এগ্রোভেট কোম্পানির এসইও মোস্তফিজুর রহমান বলেন, “আমার পণ্যে কোনো সমস্যা নেই।”
স্থানীয় কীটনাশক ডিলার ছাতাহার আলী জানান, “এবারই প্রথম এ রকম সমস্যা হয়েছে।”

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, “রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবণী জানান, “স্যাম্পল কালেকশন করে পাঠানো হয়েছে।”
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে ছালমা বলেছেন, “ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।