আমন ধানের কাটায় উৎসবের আমেজ নীলফামারীতে
নীলফামারীতে অগ্রহায়ণের শুরুতে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষক ও শ্রমিকরা এখন নতুন ধান কাটা, মাড়াই এবং সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এ সময় বাড়িতে নবান্ন উৎসবের আয়োজন চলছে, যেখানে আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সদর ও সৈয়দপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭২ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এ বছর ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৭ হেক্টর জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮১ টন ছাড়িয়ে গেছে, যা বাম্পার ফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভাব এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকার কারণে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধান কাটা শ্রমিক দলের নেতা রহিম হোসেন জানান, প্রতি বিঘা (৬০ শতাংশ) জমির আমন ধান কাটার জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ৬,০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। গত বছর এই কাজের জন্য তারা চার হাজার টাকা নিতেন। বর্তমানে বাজারে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে মজুরি বেড়েছে।
বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কৃষক মহির উদ্দিন বলেন, গুটি স্বর্ণা ও স্বর্ণা-৫ জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। এ বছর ধানের ফলন ভালো হওয়ায় ধান কাটা শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে মাড়াই করে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকায়। নতুন ধান কেটে নবান্ন উৎসব না করেও অনেকেই চালের ভাত মুখে তুলছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের ঘরে ঘরে নতুন ধানের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে এবং উঠোনে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে পিঠা-পুলি খাওয়ার ব্যস্ততা চলছে। কেউ কেউ ধান মাড়াই করে সেগুলো বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে ছুটছেন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পোকার আক্রমণ কম থাকায় এ বছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় ৩৮ শতাংশ অর্থাৎ ৪৩ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির আমন ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।