২৩ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

শরীয়তপুরে বাড়ছে বিনাচাষে পেঁয়াজ-রসুনের আবাদ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৭ নভেম্বর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুরে বাড়ছে বিনাচাষে পেঁয়াজ-রসুনের আবাদ

শরীয়তপুরে বিনা চাষে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ বাড়ছে খরচ কম এবং ফলন দ্বিগুণ হওয়ার কারণে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর জমির ভেজা মাটি পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে, যা কৃষকদের জন্য একটি সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। তারা চাষবিহীন পলিমাটিতে পেঁয়াজ ও রসুন বপন করতে শুরু করেন। অল্প খরচে এবং উর্বর মাটিতে তারা ভালো ফলন পাচ্ছেন।

তবে এবারের মৌসুমে জমি উপযোগী হওয়ার আগেই দুই দফা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আবাদ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবুও কৃষকেরা বিনা চাষে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদে ব্যস্ত রয়েছেন। শরীয়তপুরের কৃষকরা শুধু বিনা চাষেই নয়, চাষাবাদের মাধ্যমেও প্রচুর পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদন করেন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে এই জেলায় বিনা চাষ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ শুরু হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং কারিগরি সহায়তার ফলে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে কৃষকের জমির খরচ কমছে এবং বিঘাপ্রতি ফলন তিন থেকে চার মণ বেড়ে যাচ্ছে। মালচিং হিসেবে কচুরিপানা এবং খড় ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে সারও কম ব্যবহার করতে হচ্ছে।

অক্টোবর মাসের শেষ দিকে বিনা চাষে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদের কাজ শুরু হয় এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রোপণের কাজ শেষ হয়। রোপণের ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে ফলন ঘরে তোলা সম্ভব। এ বছর শরীয়তপুরে ৪,১২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ এবং ৪,২০০ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৭,৩৮০ মেট্রিক টন এবং রসুনের ৩৩,৬০০ মেট্রিক টন।

নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের কৃষক টিটু মাদবর জানান, এ বছর পেঁয়াজ-রসুনের আবাদে চাষপদ্ধতিতে খরচ হচ্ছে ৪০-৪৫ হাজার টাকা এবং বিনাচাষে ৩৫-৪০ হাজার টাকা। মৌসুম শুরুর আগে দুই দফা বৃষ্টিপাত হওয়ায় রোপণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে আবহাওয়া এখন অনুকূলে রয়েছে।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আবাদ কিছুটা বিলম্বিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কৃষকরা এখন বিনা চাষ পদ্ধতির প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন কারণ এতে খরচ কম এবং ফলন বেশি পাওয়া যায়। তারা আগাম বাজার ধরতে পারছেন এবং দামও বেশি পাচ্ছেন। আমরা কৃষকদের এই পদ্ধতিতে উৎসাহী করে তুলছি এবং মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি আগামীতে শরীয়তপুরে বিনা চাষে পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।