২৩ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

তাড়াশে অবৈধ পুকুর খনন চার হাজার, কৃষি জমি কমেছে ১৫ হাজার বিঘা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৩ নভেম্বর ২০২৪ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
তাড়াশে অবৈধ পুকুর খনন চার হাজার, কৃষি জমি কমেছে ১৫ হাজার বিঘা

ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে উর্বর কৃষি জমিতে যত্রতত্র পুকুর খনন করা হয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায়। মৎস্য অফিসের দেওয়া তথ্য মতে চার হাজার দুইশ পুকুর রয়েছে। বিশেষ করে, পুকুর খননের ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক হাজার বিঘা আবাদযোগ্য জমি এখন জলাবদ্ধ।

এদিকে কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক চৌদ্দ হাজার নয়শ চল্লিশ বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকহারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রাম, ঝুরঝুরি গ্রাম ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠের কৃষি জমিতে পানি আটকে আছে। ঘাসে ভরে গেছে জমিগুলো।

সরাপপুর গ্রামের জুয়েল রানা নামে একজন কৃষক বলেন, সরাপপুর মাঠে পনের বিঘা জমি রয়েছে আমার। প্রায় তিন বছর ধরে কোনো ফসলের আবাদ করা যায়না। কোমড় পানিতে তলিয়ে থাকে।

ঝুরঝুরি গ্রামের মৃত শামছুল প্রামানিকের স্ত্রী সনেকা খাতুন বলেন, আমার পৌনে তিন বিঘা খেত রয়েছে ঝুরঝুরি মাঠে। চাষ করতে পারিনা। আমি খুব গরীব। এখন কী খাব। তাছাড়া বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তায় মাঠের পানি উঠে আছে। কষ্টের শেষ নাই।

ভুক্তভোগী ঝুরঝুরি গ্রামের কৃষক কালু প্রামানিক, জেলহক আলী ও লিটন সরকারসহ অনেকে বলেন, প্রভাব খাটিয়ে লোকজন অবৈধভাবে পুকুর খনন করেছেন। তারা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের মতো হাজারো কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে। গরীব কৃষকদের জীবনমান আরও প্রান্তিক পর্যায়ে যাচ্ছে।

কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক মীর শহিদ বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় বিভিন্ন মাঠের প্রায় সাত হাজার বিঘা তিন ফসলি জমিতে পানি বেধে আছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি পদক্ষেপ জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুকুর বাড়ছে। কিন্তু একদশকে কৃষি জমি কমেছে চৌদ্দ হাজার নয়শ চল্লিশ বিঘা। বিশেষ করে ধান উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমি দেখব।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।