২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

মৌলভীবাজারে বন্যার পর নতুন আমন চাষ শুরু

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ৩ নভেম্বর ২০২৪ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
মৌলভীবাজারে বন্যার পর নতুন আমন চাষ শুরু

মৌলভীবাজারে বন্যার কারণে আউশ ও আমনের অনেক ফসলের মাঠ মনু ও ধলাই নদীর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। অনেক কৃষকের রোপণ করা আমনের চারা পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে কৃষকদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোতে আবারও আমন ধানের চাষ শুরু হয়েছে, এবং সেসব জমিতে এখন সবুজ ধানগাছের ঢেউ দেখা যাচ্ছে।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন সবুজের এই দৃশ্য হেমন্তের রোদে ঝলমল করছে। তবে বিলম্বিত চাষের ফলে ফসলের উৎপাদন লাভজনক হবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান পর্যবেক্ষণে রেখেছে, কিন্তু চলতি বছরে বন্যার কারণে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়নি, ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মাঠগুলোতে সবুজ ধানের গাছ বাতাসে ঢেউ খেলাচ্ছে। কিছু খেতে ধানের শিষ বের হয়েছে এবং কিছুতে ধানের ছড়া পুষ্ট হচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, পানিতে কয়েক দিন তলিয়ে থাকার পরও আগাম জাতের বিনা-১৭ ও ৭, ব্রি ধান-৭১, ৭৫ সহ কিছু জাত টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ধাইসারসহ আশপাশের অনেক খেতের রোপণ করা 'হালিচারা' পানির স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিলেন, এসব ধানগাছ নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা গেছে, ধানগাছগুলো মরে যায়নি এবং নতুন কুঁড়ি বের হচ্ছে।

কৃষক হুমায়ূন বলেন, কিছু খেতের রোপণ করা হালিচারা পানির স্রোতে ভেসে গিয়েছিল। কৃষকেরা সেসব স্থানে নতুন করে চারা রোপণ করেছেন। তবে কিছু জমি নিচু হওয়ায় সেখানে ধানের চারা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং নতুনভাবে হালিচারা কিনে রোপণ করতে হয়েছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরবর্তী সময়ে কৃষকদের নতুনভাবে বীজতলা তৈরির কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও অনেক কৃষক আমনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেছেন, যার ফলে তাদের বাড়তি খরচ হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে এবার আমন চাষ ব্যাহত হয়েছে।

কাউয়াদীঘি হাওর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দুটি ও রাজনগর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত। এবার মনু নদে বাঁধ ভেঙে পানি কাউয়াদীঘি হাওরে প্রবেশ করেছে এবং জলাবদ্ধতা তৈরি করেছে। যদিও মনু নদ সেচ প্রকল্পের আওতায় বাড়তি পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়েছে, তবুও মাঠ চাষের উপযোগী হয়নি।

এবারের বন্যায় জেলার ১৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবারও চারা রোপণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে কাউয়াদীঘি হাওরাঞ্চলে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়নি।

এবার জেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার হেক্টর, কিন্তু চাষাবাদ হয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, বিলম্বিত রোপণের কারণে ফসল কতটা লাভজনক হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। মাঠ সবুজ হলেও ফলনের পরিমাণ কেমন হবে তা বোঝা যাবে ফসল পাকলে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।