এক দিন বয়েসী বাচ্চা ৫৮ থেকে ৮৫ টাকা
মাছ ও সবজির দাম বাড়ার কারণে মুরগির বাচ্চার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অক্টোবর মাস থেকে এই দাম বাড়তে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে ডিলার পর্যায়ে একদিন বয়সি মুরগির বাচ্চা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা এই বাচ্চাগুলো খুচরা বাজারে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে। কিছু জায়গায় বাচ্চার দাম ১০০ টাকাতেও পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুদ্র খামারিরা। তারা আশঙ্কা করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দাম ১২০ টাকারও বেশি হতে পারে।
এদিকে, মুরগি ও ডিমের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছে। খামারিরা মনে করছেন, বাচ্চার দাম বৃদ্ধির ফলে নতুন কারসাজি শুরু হয়েছে। একদিন বয়সি বাচ্চার আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেক ক্ষুদ্র খামারি পথে বসতে বাধ্য হচ্ছেন। উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই খামারে নতুন বাচ্চা ওঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১ লাখ পোলট্রি খামারের মধ্যে ৬৫ হাজার খামার বন্ধ হয়ে গেছে। একদিন বয়সি বাচ্চার দাম বৃদ্ধির প্রভাব মুরগির বাজারেও পড়বে, ফলে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে পারে। রমজান মাসে মুরগির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা।
ব্রিডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা একদিন বয়সি মুরগির বাচ্চা ডিলার পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫৮ টাকায় বিক্রি করছি।” তিনি আরও বলেন, “ডিলারদের জন্য প্রতি বাচ্চায় তিন টাকা লাভ ধরা হয়েছে।” তবে কিছু জায়গায় অভিযোগ উঠছে যে, ডিলাররা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বাচ্চা বিক্রি করছেন। এ কারণে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে তদারকি এবং বাড়তি দামে বিক্রেতাদের শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নরসিংদীর একজন প্রান্তিক খামারি কামরুল হক জানান, একদিনের একটি ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনের খরচ ২৮ টাকার বেশি নয়, অথচ বাজারে তা তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। ২০১০ সালে সরকার একদিনের বাচ্চার উৎপাদন মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করেছিল এবং ব্যবসায়ীদের ৩০ টাকায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো দাম আদায় করতে থাকে।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব খন্দকার মো. মহসীন বলেন, “বাচ্চা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো রশিদ না দিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে।” এর ফলে ক্ষুদ্র খামারিরা প্রতিবাদ করতে পারছেন না এবং তারা হ্যাচারি কোম্পানিগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে একদিন বয়সি মুরগির বাচ্চার দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে উঠেছে; কোথাও কোথাও ৮৫ টাকা, আবার কোথাও ৯০ টাকা এবং অনেক এলাকায় ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শ্রীপুরের একজন খামারি শরিফুল মিয়া জানান, “৯০ টাকা দিয়ে বাচ্চা কিনছি কিন্তু তারা কোনো রসিদ দেয়নি।” তিনি বলেন, “এত দামে বাচ্চা কিনলে খাবারের দামও বেশি হবে এবং লোকসান হবে।”
ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট ৩৯টি মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী কোম্পানি রয়েছে এবং দৈনিক মুরগির মাংসের চাহিদা প্রায় ২ হাজার ২০০ টন। প্রতিদিন ডিমের চাহিদা প্রায় আড়াই কোটি এবং একদিন বয়সি মুরগির বাচ্চার সাপ্তাহিক চাহিদা প্রায় দেড় কোটি।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।