জুম চাষে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির উদ্ভাবন
পাহাড়ি অঞ্চলে জুমের ধান কাটা ও নবান্ন উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে। প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের পর পাহাড়ি কৃষকরা নতুন ধান কাটা, মাড়াই এবং সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হেমন্তের সময় সবুজ পাহাড়ের মাঝে জুমের সোনালী ধান চোখে পড়ছে।
পাহাড়ে জুম চাষ পদ্ধতি সমতল ভূমির চেয়ে ভিন্ন। ধান কাটার পর সেগুলো জমা করা হয় জুমঘরে, যেখানে মাড়াই ও বাছাইয়ের কাজ করা হয়। বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় এক বৃদ্ধ ম্রো অভিনব একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা ধান মাড়াইয়ের কাজকে সহজ করে দিয়েছে।
প্রতিবছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে জুমের জায়গা নির্ধারণ করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে সেখানে জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়। এরপর আগুন দিয়ে পুরানো আগাছা ও জঙ্গল পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষে মার্চ-এপ্রিল মাসে বীজ বপনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
৬৫ বছর বয়সী বুলু ম্রো বান্দরবানের বুলুপাড়া থেকে ধান মাড়াইয়ের জন্য একটি দোতলা ঘর তৈরি করেছেন। এই ঘরটি পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক ধান মাড়াই মেশিনের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে। ঘরের উপরের তলায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি মেঝে রয়েছে, যা ধান ও খড় আলাদা করতে সাহায্য করে।
বুলু ম্রো বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকে পুরোনো পদ্ধতিতে ধান মাড়াই দেখে আসছেন। কিন্তু স্ত্রীকে একা রেখে গ্রামের কাছে ফিরে আসার সুযোগ না পেয়ে তিনি নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। তাঁর তৈরি দোতলা ঘরটি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাজ করে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক এস এম শাহনেওয়াজ বলেন, এই পদ্ধতি পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি উদ্ভাবনী সমাধান হতে পারে। এটি সময় সাশ্রয়ী এবং শ্রমের পরিমাণ কমায়।
এ বছর পাহাড়ে নতুন ধানের নবান্ন উৎসব শুরু হয়েছে, যেখানে কৃষকরা আনন্দের সঙ্গে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলছেন।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।