২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

কৃষিপণ্য ট্রেনে প্রথম দিনে আয় মাত্র ৩৬০ টাকা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৬ অক্টোবর ২০২৪ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
কৃষিপণ্য ট্রেনে প্রথম দিনে আয় মাত্র ৩৬০ টাকা

উত্তরাঞ্চলের সবজি, ফুল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য ঢাকায় পরিবহনের জন্য ‘কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন’ চালু করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের প্রথম দিনেই ট্রেনটি কৃষিপণ্য ছাড়াই রহনপুর ছেড়ে গেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রহনপুর রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি, কিন্তু মাত্র ১৫০ কেজি সবজি পরিবহন করেছে।

পশ্চিম রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ ট্রেনে সাতটি বগি রয়েছে, যার মধ্যে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং বাকি ছয়টি সাধারণ বগি। অত্যাধুনিক লাগেজ ভ্যানে কৃষিপণ্যের মধ্যে ফল, সবজি ছাড়াও হিমায়িত মাছ, মাংস ও দুধ পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। সবজি চাষি, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অন্তত ২০টি চেয়ার রাখা হয়েছে এবং তাদের বিনা ভাড়ায় ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি শনিবার সকালে রহনপুর থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং এর ধারণক্ষমতা ১০ মেট্রিক টন।

ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকার তেজগাঁও রেলস্টেশনে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে পৌঁছাবে। কৃষিপণ্যের পরিবহন খরচ প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৩০ পয়সা হবে। রাজশাহী থেকে তেজগাঁওয়ে এক কেজি কৃষিপণ্য পৌঁছাতে খরচ পড়বে ১ টাকা ১৮ পয়সা।
রহনপুর থেকে কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেনটি ১৩টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে তেজগাঁও স্টেশনে পৌঁছাবে। নাচোল, আমনুরা জং, কাঁকনহাট, রাজশাহী, সরদহ রোড, আড়ানি, আব্দুলপুর, আজিমনগর, ঈশ্বরদী বাইপাস, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ ও জয়দেবপুরে থামবে ট্রেনটি।

এদিকে, রহনপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার। ট্রেনটির পরিবহন খরচ হয়েছে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩২ টাকা, কিন্তু প্রথম দিনে মাত্র ১৫০ কেজি ক্যারেট পরিবহন হওয়ায় আয় হয়েছে মাত্র ৩৬০ টাকা। ফলে প্রথম দিনে ট্রেনটিতে লোকসান হয়েছে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৭২ টাকা।

জানা গেছে, রহনপুরসহ অন্যান্য স্টেশনগুলোতে কোনো সবজি বুকিং দেওয়া হয়নি। রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মামুন আলি জানান, ট্রেনটি কৃষিপণ্য ছাড়াই ছেড়ে গেছে। রাজশাহী স্টেশন ম্যানেজার শহিদুল আলম বলেন, আজ উদ্বোধনের দিন হলেও রাজশাহী থেকে কোনো সবজি বুকিং হয়নি।

ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন মাস্টার পাভেল হোসেন জানান, এখান থেকেও কৃষিপণ্য বুকিং হয়নি। একই কথা জানিয়েছেন সরদহ রোড, আড়ানি ও আব্দুলপুরের স্টেশন মাস্টাররা।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে কৃষকদের সঙ্গে ঢাকার ব্যবসায়ীদের সমন্বয় এবং আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে প্রথম দিনে সবজি আসেনি। স্থানীয় কৃষক আরাফাত রহমান বলেন, পিকআপের তুলনায় ট্রেনে ভাড়া কম হলেও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তা বেশি হয়ে যায়।

অন্যদিকে শফিকুর রহমান নামে এক কৃষক জানান, সকালে ট্রেনের সময়সূচির কারণে তাদের বাজারজাত করার সমস্যা হচ্ছে। রাজশাহী মহানগর পাইকারি কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি ফাইজুল ইসলাম বলেন, ট্রেনটি তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে তবে চালুর বিষয়ে আগে জানালে তারা কিছু মাল পাঠাতে পারতেন।

পশ্চিম রেলওয়ের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা একেএম রুহুল আলম জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেনটি গত ২২ তারিখ খুলনা ও পঞ্চগড় থেকে চালু হয়েছে এবং এখন প্রথমবারের মতো রাজশাহী থেকে চালু হলো। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যতে এটি ভালো সাড়া ফেলবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।