২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

সবজি ছাড়াই যশোর ছাড়ল বিশেষ কৃষিপণ্য ট্রেন

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৩ অক্টোবর ২০২৪ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
সবজি ছাড়াই যশোর ছাড়ল বিশেষ কৃষিপণ্য ট্রেন

বাংলাদেশ রেলওয়ে কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু করেছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কম খরচে কৃষিপণ্য পৌঁছে দেবে। গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এই ট্রেন। যশোর স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ৪০ মিনিট বিলম্ব হয় এবং প্রথম দিনে কৃষিপণ্য ছাড়াই যশোর ছেড়ে যায়। কৃষকরা জানান, বিশেষ ট্রেনের বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রথম দিনে খুলনা থেকে সাতটি বগিতে ৬৪০ কেজি পণ্য নিয়ে ট্রেনটি যাত্রা করেছে। আগামী মঙ্গলবার খুলনা, বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় এবং শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কৃষিপণ্য নিয়ে ট্রেনটি চলাচল করবে। প্রতিদিন ১২০ টন পণ্য পরিবহনের সুবিধা থাকবে এবং প্রতি কেজি সবজি ও কৃষিপণ্য পরিবহনে খরচ পড়বে ১ টাকা ৮ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৭ পয়সা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে আধুনিক কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগিও রয়েছে। এই ট্রেন যাত্রাপথে যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া সহ ১৫টি স্টেশন থেকে পণ্য গ্রহণ করবে।

যশোরের কৃষকরা জানান, প্রচারণার অভাবে তারা প্রথম দিনে সবজি সরবরাহ করতে পারেননি। তবে রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার দাবি করেছেন যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে, কিন্তু আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।

ছোট হৈবতপুর গ্রামের সবজি চাষী আব্দুল আলিম বলেন, “আমি প্রথমবারের মতো ট্রেনের কথা শুনলাম।” বারীনগর সাতমাইল হাটের আড়তদার আতিয়ার রহমান জানান, তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকেই ট্রেনের বিষয়টি জানতে পারেন এবং বলেন যে ট্রাকের মাধ্যমে সবজি পাঠানো তাদের জন্য সুবিধাজনক।

যশোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি মুন্সী মেহেরুল্লাহ স্টেশনে থামার কথা থাকলেও সেখানে কোনো সবজি পাওয়া যায়নি। বারবাজার রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মোবাশ্বের হোসেন জানান, বিশেষ ট্রেনটি বেলা ১২টা ২০ মিনিটে বারবাজার পার করেছে কিন্তু এখান থেকেও কোনো সবজি ওঠেনি।

এদিকে, যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সুশান্ত তলরদার বলেন, “সবজি পরিবহনের বিশেষ ট্রেনের খবর আমরা জানি এবং এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হবে।”

এই বিশেষ ট্রেনে ফল ও সবজি পরিবহন করা যাবে এবং রেফ্রিজারেটেড ভ্যানে হিমায়িত পণ্য যেমন মাছ, মাংস ও দুধও পরিবহন করা হবে। ট্রেনটি খুলনা থেকে সকাল সোয়া ১০টায় বের হয়ে বেলা ২টার পর চুয়াডাঙ্গা পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী জানান, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিক্রির সময় বিবেচনা করে ট্রেনটি রাতে ঢাকায় পৌঁছাবে। চাহিদা বাড়লে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।