রংপুরে বৃষ্টির দেখা নেই, খরার ঝুঁকি
ছয় মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই রংপুরসহ এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায়। এতে বোরো ধান এবং অন্যান্য ফসল পুরোপুরি সেচনির্ভর হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফসলের খেত ফেটে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত সেচযন্ত্র ব্যবহারের ফলে কৃষকদের বাড়তি খরচ বইতে হচ্ছে। এছাড়া ভূগর্ভের পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে। ফলে খরার ঝুঁকিতে পড়েছে রংপুর অঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে চাষাবাদেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় এ অঞ্চলের কৃষকরা।
জানা গেছে, রংপুর নগরীর তামপাট, মাহিগঞ্জ, মর্ডান, দর্শনা, সাতমাথা, কেরানিরহাট, তপোধন, বাহার কাছনাসহ জেলার মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া, হারাগাছ, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া এবং লালমনিরহাটের আদিতমারি, ভাদাই, বড়কমলাবাড়ি, ভেলাবাড়ি, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, বিন্দ্যানন্দ, চাকিরপশার, নাজিমখান, উলিপুরের হাতিয়া, দলদলিয়াসহ পাঁচ জেলায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে।
কিন্তু সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পানির অভাবে অনেক স্থানে খেত ফেটে গেছে। তার পরও ফসল রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। সেচের মাধ্যমে পানি দিতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফসল বিক্রি করে সেই টাকা তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।
রংপুর নগরীর তামপাটের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, বোরো চাষ আমাদের জন্য লাভজনক। কিন্তু সময় মতো বৃষ্টি না হওয়ায় আমরা হতাশ। খরচও অনেক বেড়েছে। উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা জানি না।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার কৃষক ইসা মিয়া এবং বিদ্যানন্দ রতিগ্রামের কৃষক আমজাদ হেসেন জানান, সময় মতো বোরোর জমিতে পানি দিতে না পারায় এবার ফসল ভালো হবে না।
কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলায় কয়েক লাখ সেচযন্ত্র দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ভুগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বেড়েই চলছে। সামনে খরার ঝুঁকিতে পড়তে পারে রংপুর অঞ্চল। চাষাবাদেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, অন্য সময় ডিসেম্বর থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত কিছু বৃষ্টি হলেও গত সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে শুধু মার্চে বৃষ্টি হয়েছে ৯৮ মিলিমিটার। তাও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। কবে নাগাদ বৃষ্টি হবে তাও বলা যাচ্ছে না।
এদিকে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ রংপুর নগরীসহ এ অঞ্চলের জনজীবন। কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।