আদালতের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি মৃত্তিকার ডিজির
ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য চলছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে (এসআরডিআই)। ৮৯ নন-ক্যাডার কর্তাকে বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারে একীভূত করতে উচ্চ আদালতের রায় থাকলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক (ডিজি) জালাল উদ্দিন। এ বিষয়ে কথা বলতে তাঁর কক্ষে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আলোচনার এক পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও চালকদের দিয়ে তাদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসআরডিআই সূত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার দু’ধরনের কর্মকর্তা রয়েছেন। এর আগেও এনক্যাডারমেন্ট (একীভূত) হয়েছেন নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা। সর্বশেষ গত ২০ মার্চ এসআরডিআইর ৮৯ জন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্তাকে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে একীভূতকরণের জন্য আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়কে রায় বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেন প্রতিষ্ঠানটির ডিজি। তবে ক্যাডার অফিসারদের প্ররোচনায় ডিজি নানা কৌশলে এনক্যাডারমেন্টের বিরোধিতা করে আসছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ৮৯ কর্মকর্তা। নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ডিজির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য তাঁর কক্ষে যান। এক পর্যায়ে তাদের গায়ে হাত দিতে উদ্যত হন ও হট্টগোল করেন কর্মচারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন সেনা সদস্যরা।
এসআরডিআই সূত্র জানায়, ক্যাডার অফিসাররা এসও থেকে এসএসও পদে পদোন্নতি পান পাঁচ বছরে। তবে নন-ক্যাডাররা এসও থেকে এসএসও পদে পদোন্নতি পান সাত বছরে। একইভাবে পিএসও হতে ক্যাডারদের পাঁচ বছর লাগলেও নন-ক্যাডারদের লাগে সাত বছর এবং সিএসও হতে ক্যাডারদের তিন বছর লাগলেও নন-ক্যাডারদের লাগে পাঁচ বছর।
প্রতিষ্ঠানপ্রধানের পদ (ডিজি) দুই পক্ষের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ২০২০ সাল থেকে কেবল ক্যাডার অংশ থেকেই নিয়োগের বিধান করা হয়। এতে নন-ক্যাডার অংশ বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। হুমকির অভিযোগ বিষয়ে জানতে এসআরডিআই মহাপরিচালকের মোবাইল ফোনে কয়েক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (বালাইনাশক প্রশাসন) পদে পদায়ন হয় হাসিনুর রহমানের। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ-১ শাখা থেকে অন্য পাঁচ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা থেকে এ পদে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রোববার তিনি এ পদে খামারবাড়িতে যোগদান করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন বিকেলে তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন ওই পদে যেতে ইচ্ছুক রাঙামাটি আঞ্চলিক অফিসে এআইএসে কর্মরত আহসান হাবিব। তাঁর অনুসারীদের নিয়ে উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ছাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চান, কেন হাসিনুরকে যোগদান করতে দেওয়া হলো। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা হয়নি সেই তালা। দিনভর খামারবাড়িতে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও এ খবর পান। তবে বিষয়টি জানা নেই বলে দাবি করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারি।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক:
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।