২২ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

রাঙামাটিতে বিলেতি ধনিয়া পাতার চাষ

রাঙামাটি প্রতিনিধি ৫ জুলাই ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
রাঙামাটিতে বিলেতি ধনিয়া পাতার চাষ

রাঙামাটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে চমক দেখাচ্ছে বিলেতি ধনিয়া বা ধনেপাতার চাষাবাদ। এতে অল্প সময়েই লাখ টাকা উপার্জন করছেন কৃষক। বাজারে এখন শতকোটি টাকার ধনেপাতার বাণিজ্য হচ্ছে। দেশজুড়ে ছড়িয়েছে বিলেতি ধনিয়া পাতার চাহিদা।

স্থানীয় কৃষিবিদ ও কৃষকরা জানান, পাহাড়ি এলাকায় উপযুক্ত ভূমি ও অনুকূল পরিবেশের কারণে দিন দিন বিলেতি ধনিয়া পাতার চাষ বেড়ে চলেছে। দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে এ ধনে পাতার চাহিদা। ফলে এর বাজার ছাড়িয়েছে কোটি টাকার বাণিজ্য। পাতা জাতীয় এ ফসলটি সুগন্ধিযুক্ত, উচ্চ পুষ্টি ও ভেষজগুণ সমৃদ্ধ। এটি পাতা বা শাক জাতীয় হলেও কার্যত এর গুণ মসলার। এ বিলেতি ধনিয়া পাতা এখন সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। তবে এই ফসল জলাবদ্ধতা সইতে পারে না। এগুলো চাষের জন্য জমিতে যেমন রস থাকতে হয়, তেমনি পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে হয়। এসব বিবেচনায় পার্বত্য অঞ্চল ধনে পাতা চাষে পুরোপুরি উপযোগ্য। আর চাহিদা থাকায় বিলেতি ধনে পাতা এখন পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসাবে অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। তবে এর প্রচুর উৎপাদনে প্রয়োজন আলো-ছায়ার। তাই উপরে মাচা দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়। এতে একই সঙ্গে সাথী ফসল হিসাবে লাউ, চাল কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজিও চাষ করা যায়। ফলে অধিক লাভজনক হওয়া এই ধনেপাতা চাষে ঝুঁকছেন কৃষক।

দেখা গেছে, বর্তমানে বিলেতি ধনেপাতার সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হচ্ছে রাঙামাটির কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও কাউখালী উপজেলায়। পাহাড়ের পাদদেশে নিচু জমিতে বাঁশের মাচা দিয়ে বিস্তর চাষাবাদ হচ্ছে ফসলটির। ওই তিন উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে গেলেই চোখে পড়ে এ ধনেপাতার ফসল। ফসল তুলে সেগুলো আঁটি ঁেবধে নেওয়া হয় বাজারে। ব্যাপারীদের হাত ধরে এই ধনেপাতা চলে যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। ওই তিন উপজেলা ছাড়াও নানিয়ারচর ও রাজস্থলীতেও কিছু কিছু এলাকায় এ ধনেপাতার চাষ হচ্ছে বলে জানা যায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর ৫০ হেক্টার জমিতে বিলেতি ধনেপাতার চাষ হয়েছে। আর এর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র তিন হাজার টন। বাজারে প্রতি কেজি ধনেপাতা বেচাকেনা হয় ৮০-১০০ টাকায়। বর্তমানে বাজারে শতকোটি টাকার ধনেপাতার বাণিজ্য হচ্ছে।

কাপ্তাইয়ে কৃষক অমীয় চাকমা বলেন, এবার এক একর জমিতে বিলেতি ধনেপাতা চাষ করেছি। এতে প্রায় দুই-তিন টন ফসল উৎপাদনের আশা করছি। বাজারে এখন এক কেজি ধনেপাতা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। সে হিসাবে দুই-আড়াই লাখ টাকার ধনেপাতা বিক্রি করতে পারব বলে আশা আছে। এই ধনে পাতার বীজ এক সঙ্গে গজায় না। ফলে একবার রোপণ করলে কম করে চারবার ধনেপাতা সংগ্রহ করা যায়।

আরেক কিষাণি সজনী চাকমা বলেন, এই বিলেতি ধনেপাতা চাষ করতে হলে আলো-ছায়ার দরকার হয়। তাই এগুলো চাষ করলে মাচা দিতে হয়। আবার সেই মাচাতেই লাউ, বরকটি, চিচিঙ্গা চাষ করতে পারি। এতে আমাদের বাড়তি আয় হয়।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পাহাড়ি এলাকার এই বিলেতি ধনেপাতার চাহিদা এখন দেশজুড়ে বেড়েছে। ফলে এর বাজার বছরে শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। পাহাড়ে কৃষিভিত্তিক এ অর্থনীতির দিকটি বিবেচনা করে আমরা এ ফসললটির উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।


 

রাঙামাটি প্রতিনিধি

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।