মাল্টা চাষ করে নতুন স্বপ্ন দেখছে মিঠাপুকুরের কৃষকরা
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মাল্টা চাষ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সম্ভাবনাময় এই কৃষি খাতটি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণ নয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাল্টা রপ্তানি করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মাল্টা শুধু একটি সুস্বাদু ফলই নয়, এটি ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, চর্বিমুক্ত ক্যালরি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর। ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ ক্ষমতা থাকায় মাল্টা কমবেশি সব পরিবারের শিশুসহ সকলের কাছে একটি জনপ্রিয় ফল।
মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের গুটিবাড়ী এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ হাবিব মিয়া মাল্টা চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি এ বছর ৪৫০টি মাল্টা গাছ রোপণ করেছেন এবং প্রথম বছরেই কিছু কিছু গাছে সবুজ ও কাঁচা মাল্টা দেখা যাচ্ছে। এর আগে তিনি এই জমিতে কলা চাষ করতেন, কিন্তু তাতে তেমন ভালো ফল না পাওয়ায় মাল্টা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। হাবিব মিয়া জানান, তিন বছর পর এই মাল্টা গাছগুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা সংগ্রহ করা যাবে। তবে ইতিমধ্যে এক বছরের মধ্যেই কিছু কিছু গাছে মাল্টা দেখা দেওয়ায় তিনি আশাবাদী।
মোঃ হাবিব মিয়া ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক মাল্টার বাগান গড়ে উঠেছে, যা মিঠাপুকুরে মাল্টা চাষের ব্যাপক প্রসারের ইঙ্গিত বহন করে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ এই সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তারা জানান, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে উৎপাদিত মাল্টা মিঠাপুকুর উপজেলাবাসীর চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মাল্টা চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে এবং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়ক হবে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।