২৪ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

দেশি-বিদেশি আমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বান্দরবান

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৭ মে ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
দেশি-বিদেশি আমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বান্দরবান

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে দিন দিন বাড়ছে আমের চাষ। একসময় এখানে কেবল দেশি জাতের আম চাষ হতো, তবে এখন পাহাড়ি জমিতে চাষ হচ্ছে জাপানি ‘মিয়াজাকি’, থাই ‘কাটিমন’, ‘রেড পালমার’, ‘ব্যানানা’, ‘ব্রুনাই কিং’সহ নানা বিদেশি জাতের সুস্বাদু আম। স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও আগ্রহে গড়ে উঠেছে নতুন এক ফলনভিত্তিক সম্ভাবনার দিগন্ত, যেখানে এই আমগুলো শুধু স্থানীয় হাটেই নয়, ছড়িয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এমনকি রাজধানী ঢাকার বাজারেও।

বান্দরবান জেলা সদরের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকার ও জাতভেদে আমের দাম ভিন্ন ভিন্ন। দেশি রূপালি (আম্রপালি) ও রাংগোয়াই আম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে, বিদেশি জাতের মধ্যে রেড পালমার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজিতে, ব্যানানা ২০০, কিউজাই ১৮০ এবং রেডকুইন ৩০০ টাকা দরে। এসব আমের স্বাদ ও গুণমান অনেক ভালো হওয়ায়, ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

পাইকারি ফল ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস জানান, এ বছর পাহাড়ে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও ড্রাগন ফলের ভালো ফলন হয়েছে। বান্দরবানের ফলের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশের কারণে এখানকার পণ্য অন্য জেলার তুলনায় বেশি চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠছে।

রুমা উপজেলা ও চিম্বুক পাহাড় থেকে আম সংগ্রহ করে জেলা সদরে এনে বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আফনানুর রহমান। তিনি বলেন, “এই আমগুলো খুবই স্বাদযুক্ত ও ফরমালিনমুক্ত। বিশেষ করে পর্যটকদের মধ্যে এসব ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।”

আসা ক্রেতাদের অনেকেই জানান, এখানকার আমের স্বাদ তুলনামূলক মিষ্টি ও স্বাস্থ্যকর। স্থানীয় ক্রেতা মো. জয়নাল বলেন, “বিদেশি আমের স্বাদ ভালো এবং এখন দামও হাতের নাগালে। পাহাড়ি এলাকায় কীটপতঙ্গ কম থাকায় এই ফলগুলো বেশি নিরাপদ মনে হয়।” অপর ক্রেতা মো. শাহাবউদ্দিন বলেন, “পাহাড়ের ফল এমনিতেই অনেক মিষ্টি হয়। আজ ব্যানানা, রেড পালমারসহ কয়েকটি জাতের আম কিনেছি, দামও তুলনামূলক সাশ্রয়ী।”

বান্দরবানের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এম এম শাহ্ নেয়াজ জানান, চলতি বছর আম উৎপাদনে বান্দরবানে রীতিমতো বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর মতে, জেলার মোট আম উৎপাদনের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ রাংগোয়াই, ৩০ শতাংশ আম্রপালি এবং ১০ শতাংশ বিদেশি জাতের আম। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সরকারি প্রণোদনার ফলে বান্দরবানে বাণিজ্যিক ফলচাষ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি এলাকায় ফলচাষ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, নিরাপদ ফলের জোগান নিশ্চিত করে দেশের বাজারেও নতুন আস্থা তৈরি করবে বলে আশা করা যায়।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।