২৩ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ কৃষিতে বরাদ্দের তাগিদ

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৭ মে ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ কৃষিতে বরাদ্দের তাগিদ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে শিল্প খাতের অবদান বাড়লেও কৃষি এখনো দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কিন্তু জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দের যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, তা কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন—টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাজেটের কমপক্ষে ১০ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দ দিতে হবে।

২০১১–১২ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল ১০.৬৫ শতাংশ। এক দশক পেরিয়ে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.৯৪ শতাংশে। অথচ কৃষিতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ শতাংশ—যেটিও পূরণ হচ্ছে না।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “শুধু বরাদ্দ নয়, কৃষিভর্তুকির পরিমাণও যথেষ্ট নয়। বাজেটের কমপক্ষে ৫ শতাংশ সরাসরি ভর্তুকি আকারে কৃষকদের হাতে পৌঁছানো দরকার।”

চলতি অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ আরও কমেছে। বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার পরামর্শে ভবিষ্যত বাজেটেও তা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ, সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচব্যবস্থায় খরচ বেড়েই চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরাসরি ভর্তুকি কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ মো. নজরুল ইসলাম। তাঁর মতে, “উৎপাদন বাড়াতে হলে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সহজে অর্থ পৌঁছাতে হবে।”

বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। এর একমাত্র উপায় হলো—বাজেট বাড়ানো এবং সময়োপযোগী ভর্তুকি নিশ্চিত করা।

ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “উৎপাদন পর্যায়ে খরচ কমলে, বাজারে কৃষিপণ্যের দামও কমবে। এতে ভোক্তারা স্বস্তিতে থাকবেন এবং কৃষকরাও টিকতে পারবেন।”

বরাদ্দ কম থাকায় যেমন কৃষির অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বিদ্যমান বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও লক্ষ্যপূরণে পর্যবেক্ষণের অভাবও লক্ষ্যণীয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটি গঠন করা উচিত, যারা প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন করবে।

বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে কৃষিতে বাজেট বরাদ্দ কমানো মানে ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা, প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপন এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলা। টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে হলে এখনই সময়—কৃষিকে অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার দেওয়ার।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।