মিরসরাইয়ে সমন্বিত কৃষি খামার করে সাবলম্বী উদ্যোক্তা আফতাব
“সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোভাব থাকলে সাফল্য অনিবার্য" -এই কথার জীবন্ত প্রমাণ চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আফতাব উদ্দিন। একসময় ছিলেন ক্ষুদ্র এক কৃষক—আজ তিনি এক সমন্বিত কৃষি খামারের সফল উদ্যোক্তা, বদলে দিয়েছেন নিজের পরিবার, সমাজ এবং আশেপাশের তরুণদের চিন্তাভাবনা।
শুরুতে আফতাব উদ্দিন কেবল ধান ও শাকসবজি চাষ করতেন। কিন্তু বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং মৌসুমি লোকসানে হতাশ হয়ে পড়েন। তখনই সিদ্ধান্ত নেন—চাষাবাদে পরিবর্তন আনবেন। সরকারি দপ্তর—কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরামর্শে শুরু করেন এক সমন্বিত খামার।
বর্তমানে আফতাবের খামারে রয়েছে, ২৭টি গরু, ১০০টির বেশি হাঁস-মুরগি ও কবুতর, ৩টি পুকুরে মাছ চাষ, ২২টি রিংয়ে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট), ৯ একর জমিতে জার্মান নেপিয়ার ঘাস চাষ, ৮ একরে ধান, ১ একরে সবজি, ৫০০ বস্তায় আদা, মৌসুমি সরিষা ও সূর্যমুখী চাষ, ১০ জন শ্রমিক ও পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত দক্ষ ব্যবস্থাপনা।
আফতাব উদ্দিন বলেন, “শুরুতে ঝুঁকি ছিল, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, পারিবারিক সহায়তা এবং সরকারি সহযোগিতার কারণে আজ আমি এই অবস্থানে। আমার লক্ষ্য শুধু লাভ না, বরং টেকসই কৃষি গড়ে তোলা।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, “আফতাব উদ্দিনের খামার এখন মীরসরাইয়ের তরুণ কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণা। অনেকেই তাকে দেখে নিজেদের জীবন বদলানোর চেষ্টা করছেন।”
আজমনগর গ্রামে শুধু আফতাব নয়, বদলে গেছে পুরো গ্রামের চিত্র। সেখানকার তরুণরা এখন কৃষিকে জীবিকার পাশাপাশি সম্মানের পেশা হিসেবেও ভাবছেন। এই খামার হয়ে উঠেছে একটি সমাজের জাগরণ কেন্দ্র।
আফতাব উদ্দিন প্রমাণ করেছেন—সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য বড় পুঁজি নয়, প্রয়োজন সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা, পরিশ্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এমন উদ্যোগ শুধু পরিবার নয়, সমাজ, অঞ্চল ও দেশের উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।