২৪ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

ধানের চারা পচে যাওয়ায় কৃষককে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৬ মে ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
ধানের চারা পচে যাওয়ায় কৃষককে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজের চেষ্টা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরমত্ত গ্রামে বর্গাচাষি এক কৃষক পরিবারের সারা বছরের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে একটি মাত্র ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে। মাত্রাতিরিক্ত আগাছানাশক প্রয়োগে ১০০ শতাংশ জমির ধানগাছ পচে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষি সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় মাস খানেক আগে তিনি শহরের লঞ্চঘাট এলাকার মেসার্স গফুর ট্রেডার্স থেকে আগাছা দমনের জন্য এক্সট্রা পাওয়ার ও ফরগোল্ড নামের দুটি ওষুধ সংগ্রহ করেন। বিক্রেতার পরামর্শ অনুযায়ী তা জমিতে প্রয়োগ করার কয়েক দিনের মধ্যেই ধানগাছের পাতা কালচে হয়ে যায় এবং দ্রুত পচতে শুরু করে।

সাইফুলের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বলেন, “১০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষে আমাদের খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এই জমি থেকে অন্তত ৭০-৮০ মণ ধান পাওয়ার আশা ছিল। এখন পুরো খেত পচে গেছে। ওষুধ কোম্পানির কারণে আমরা আজ নিঃস্ব।”

পরবর্তীতে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন ও এসিআই কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির উপস্থিতিতে দোকানদার মো. গফুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১২ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সাইফুলের পরিবার সেই টাকা গ্রহণ করেনি।

ওষুধ বিক্রেতা গফুর দাবি করেন, “কৃষককে বলা হয়েছিল ১২ ড্রাম পানির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করতে। তিনি কম পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করায় গাছ পচে গেছে। এরপরও আমি মানবিক কারণে ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়েছি।”

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ড. রবীআহ নূর আহমেদ বলেন, “কোনো দোকানদার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ ছাড়া কৃষকের কাছে ওষুধ বিক্রি করতে পারে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওষুধ প্রয়োগ বিধি অনুসরণ না করায় গাছ পচেছে। আমরা ধানের নমুনা সংগ্রহ করবো এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হবো আসল কারণ কী।”

তিনি আরও বলেন, “উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারেন না। বিষয়টি আরো তদন্তসাপেক্ষ।”

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।