২৪ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

সড়কেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের কষ্টের ফসল

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২০ মে ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
সড়কেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের কষ্টের ফসল

সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় ঠাকুরগাঁও জেলার প্রান্তিক কৃষকরা উৎপাদিত আলু পচে যাওয়ার ফলে মারাত্মক লোকসানে পড়েছেন। হিমাগারে পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে অনেকেই বস্তায় ভরে আলু সেডে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায়ই সেই আলুগুলোতে পচন ধরেছে। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরা এখন রাস্তার পাশে, পুকুরে বা ডোবার ধারে আলু ফেলে দিচ্ছেন। দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষও পড়েছেন বিপাকে।

ঢোলারহাট, আঁকচা ও নারগুনসহ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা প্রতিটি বিঘায় আলু চাষে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছেন, অথচ বর্তমানে বিক্রিতে ২০ হাজার টাকাও উঠছে না। অনেকে অস্থায়ী সেড নির্মাণ করে আলু সংরক্ষণ করলেও উচ্চ তাপমাত্রা ও অনুপযুক্ত পরিবেশে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ঠাকুরগাঁওয়ে ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন। অথচ জেলার ১৭টি হিমাগারে ধারণক্ষমতা মাত্র দেড় লাখ মেট্রিক টন। ফলে প্রচুর আলু সংরক্ষণের বাইরে রয়ে গেছে।

অনেকে কেজি প্রতি সাড়ে ১৪ টাকা দরে ভালো আলু বিক্রি করছেন, আবার নষ্ট আলু ৪ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। যেগুলো সম্পূর্ণ পচে গেছে, তা ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক জায়গায় মানুষ গরুকে খাওয়ানোর জন্য আলু কুড়িয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, পূর্বে দেশের আলু বিদেশে রপ্তানি হলেও এখন সংরক্ষণের অভাবে দেশেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানি বা সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা না থাকায় কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক দাবি করেছেন, আলু নষ্ট হওয়ার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই, তবে সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।