আখের সঙ্গে ধানচাষ, বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি
পাবনার মাঠে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে এক নতুন কৃষি উদ্যোগ—আখ ক্ষেতে সাথি ফসল হিসেবে ধান চাষ। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই জমিতে একসঙ্গে আখ ও ধান চাষ করে কম খরচে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।
এই পদ্ধতিতে ধান চাষে পানির প্রয়োজন হয় প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ। আখ খরচের মাধ্যমে ধানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যয় মেটানো সম্ভব। ফলে কৃষকের খরচ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে আসে। একই সঙ্গে আখ উৎপাদনও বাড়বে, যা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর কাঁচামালের সংকট দূর করতে সহায়ক হবে।
বিএসআরআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামস তাবরিজ জানান, উত্তরাঞ্চলে এক কেজি বোরো ধান উৎপাদনে যেখানে আড়াই হাজার লিটার পানি লাগে, সেখানে এই যৌথ চাষ পদ্ধতিতে তা অনেকাংশে সাশ্রয় হয়। কারণ আখ একটি খরাসহিষ্ণু ফসল এবং ধানের প্রয়োগকৃত সার আখেও কাজে লাগে। ফলে সার, সেচ ও জ্বালানির খরচ একযোগে কমে আসে।
এই গবেষণার প্রধান গবেষক এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, “আমরা আখের দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রকৃতি বিবেচনায় এর সঙ্গে ধানের চাষ উপযোগী করে কৃষকের লাভবান হওয়ার পথ খুঁজেছি। এই যৌথ চাষে খরচ কমে এবং লাভ বাড়ে।”
তিনি জানান, বেড পদ্ধতি ও সরাসরি বপন পদ্ধতি—এই দুইভাবেই আখ-ধান একসঙ্গে চাষ করা সম্ভব। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ পড়ে না, বরং ভূ-উপরিস্থ পানির সংরক্ষণ সম্ভব হয়, ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচও হ্রাস পায়।
প্রকল্পটির আওতায় পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি কৃষি ফার্মসহ আরও কয়েকটি জায়গায় গত তিন বছর ধরে চলছে ধারাবাহিক পরীক্ষা। সফল ফলাফলের ভিত্তিতে এখন খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ চলছে। গবেষকদের আশা, শিগগিরই এটি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, “আখ একটি অর্থকরী ফসল। ধানের সঙ্গে আখ চাষ হলে কৃষকের আর্থিক লাভ বাড়বে। তবে সময়মতো রোপণ ও পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমদ জানান, “ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। তাই আখের সঙ্গে ধানের যৌথ চাষ পদ্ধতি সহজেই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আমরা আশাবাদী। এতে একই জমি থেকে কৃষক একাধিক ফসল পেয়ে লাভবান হবেন।”
এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি শুধু আখের কাঁচামাল সংকট দূর করবে না, বরং বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে আনবে একটি টেকসই ও লাভজনক পরিবর্তন—বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট সকলের।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।