২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

বিষমুক্ত সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১০ মে ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
বিষমুক্ত সবজি চাষে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষি

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের একটি প্রদর্শনী প্লট এখন হয়ে উঠেছে বিষমুক্ত সবজি চাষের উজ্জ্বল উদাহরণ। রাসায়নিকের বদলে প্রাকৃতিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে এখানে চাষ হচ্ছে করলা, শসা, বরবটি, মূলাসহ নানা জাতের সবজি। কৃষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে তারা যেমন স্বাস্থ্যকর ফসল পাচ্ছেন, তেমনি পাচ্ছেন ভালো ফলন ও বাজারমূল্য।

প্রদর্শনী প্লটের দায়িত্বে থাকা কৃষক মাসুদ আহমেদ প্রায় ১ একর জমিতে এই চাষ করছেন। আগাছা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়েছে মালচিং পদ্ধতি, আর পোকামাকড় দমনে বসানো হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। ক্ষেতের ভেতরে ঢোকার আগে রয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এবং মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—যা সচেতন কৃষিচর্চার এক অভিনব উদাহরণ। মাসুদ জানান, “প্রথমে ভাবিনি বিষ ছাড়া ফসল ফলানো সম্ভব। কিন্তু এখন নিজের চোখেই ফলন দেখছি। বাজারে ভালো দাম পাওয়ারও আশা করছি।”

মাসুদের সাফল্যে আশপাশের কৃষকেরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কৃষক আতিকুল ইসলাম বলেন, “এই পদ্ধতিতে কাজ করে নতুন অনেক কিছু শিখেছি। এখন বিষ ছাড়াই চাষ করি। লাভের সম্ভাবনাও দেখছি।”

এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে গ্যাপ বাংলাদেশ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায়। রংপুর বিভাগের ৩৫টি উপজেলায় ৪৫ জন কৃষক এই পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন করছেন। প্রতিটি প্রদর্শনী প্লটে দেওয়া হয়েছে উন্নতমানের বীজ, জৈব সার, মালচিং সামগ্রী ও ফেরোমন ফাঁদ। নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা।

উত্তম কৃষিচর্চা কর্মসূচির রংপুর অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা অশোক কুমার রায় জানিয়েছেন, “শসা ও করলা ছাড়াও মোট ১০টি সবজি ও ৫টি ফলের প্রদর্শনী চলছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে সারাদেশে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে নিরাপদ সবজি ও ফল উৎপাদন নিশ্চিত করা।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লালমনিরহাটের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন বলেন, “এই চাষপদ্ধতি পরিবেশবান্ধব এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। আমাদের লক্ষ্য, এটি যেন দেশের প্রতিটি কৃষকের হাতে পৌঁছায়।”

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষক, প্রশাসন এবং সচেতন সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষের সচেতনতা বাড়ছে, সেই চাহিদা পূরণে আমরা প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি প্রান্তিক কৃষকদের কাছে।”

এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে—বিষমুক্ত কৃষি শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সচেতনতার আন্দোলন, যা বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।