খাগড়াছড়িতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষি ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষিভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম। তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে গড়ে উঠছে নার্সারিকেন্দ্রিক রেস্তোরাঁ ও পর্যটন কেন্দ্র, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে যেমন অবদান রাখছে, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছে।
মহালছড়ি উপজেলার মোড়াপাড়া এলাকায় গড়ে ওঠা ‘স্বপ্ন বিলাশ ফ্লাওয়ার ভিলেজ’ এখন জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এই নার্সারিকেন্দ্রিক রেস্তোরাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছেন স্থানীয় তরুণ মো. খালেক মাসুদ সাগর। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার পথ বেছে নেন।
প্রায় দুই একর পারিবারিক জমিতে গড়ে তোলা এই নার্সারিতে রয়েছে ৪৫ প্রজাতির ফল, ফুল, কাঠ ও ঔষধি গাছের প্রায় ৩০ হাজার চারা। এখান থেকে ইতোমধ্যে ১৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেছেন এবং এ বছর আরও ৬ লাখ টাকার বিক্রির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। চারজন পুরুষ ও চারজন নারী শ্রমিক এখানে নিয়মিত কাজ করছেন, যাঁদের প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও খণ্ডকালীন চাকরির মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
এই নার্সারির আশেপাশে গড়ে তোলা হয়েছে মনোমুগ্ধকর একটি রেস্তোরাঁ, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে চা-কফির আড্ডা, ছবি তোলা এবং ঘোরাঘুরির পাশাপাশি ফুল-ফলের চারা কেনার সুযোগ থাকায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় করছেন। স্থানীয় শিক্ষিকা নির্ঝরা খীসা বলেন, “এখানে এলে মনটা ভালো হয়ে যায়। চারপাশে ফুল, গাছ আর প্রাকৃতিক শীতল পরিবেশ। সঙ্গে উপহার দেওয়ার মতো গাছ কেনার সুযোগ—সব মিলিয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতা।”
জেলায় এমন আরও অর্ধ শতাধিক কৃষি ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয়দের কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব রাখছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম বলেন, “জেলায় প্রায় ৫০টির মতো কৃষি ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সরকার যদি এদের আরও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, তাহলে এই খাতটি অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।”
উদ্যোক্তা খালেক মাসুদ সাগরের মতে, “এই উদ্যোগ শুধু ব্যবসা নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, সংস্কৃতি লালন ও অর্থনীতির বিকাশেও ভূমিকা রাখছে।”
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।