২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

শ্রম বেশি মজুরি কম, বেশি বৈষম্যের শিকার নারীরা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১ মে ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
শ্রম বেশি মজুরি কম, বেশি বৈষম্যের শিকার নারীরা

উত্তরের কৃষিপ্রধান জেলা গাইবান্ধায় হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক দিনরাত মাঠে কাজ করছেন—কখনো রোদে, কখনো বৃষ্টিতে। প্রচলিত আঞ্চলিক প্রবাদ "মুই হনু কামলা, সারা দিন কাম দিলে, ভাত এক গামলা" যেন আজও বাস্তব। কৃষি শ্রমিকদের ঘামে গড়ে উঠছে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, অথচ তাঁদের জীবনের মৌলিক চাহিদাই আজও অনিশ্চিত।

গাইবান্ধা জেলায় ৫৫ হাজারের বেশি তালিকাভুক্ত কৃষি শ্রমিক রয়েছেন, যারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। অথচ এই মজুরি জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। তার চেয়েও উদ্বেগজনক, নারী শ্রমিকরা সমান শ্রম দিলেও পুরুষদের তুলনায় অনেক কম মজুরি পান। ক্ষেত থেকে ফসল তোলা, আগাছা পরিষ্কার কিংবা সার প্রয়োগ—সব কাজেই তারা দক্ষ, তবু ন্যায্য পাওনাটুকু থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কম মজুরি পান।

মজুরি বৈষম্যের পেছনে রয়েছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, দর কষাকষির অক্ষমতা এবং সংগঠনের অভাব। কৃষকরা নিজেরাও অনেক সময় অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল থাকায় শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি দিতে পারেন না। এর মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীরা বড় একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে—যারা কৃষিপণ্য ও শ্রম উভয়ের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে শ্রমিকদের ঠকাচ্ছে।

জাতীয় কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতি ও নারী অধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলছেন, কৃষি শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মঘণ্টা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী শ্রমিকদের মর্যাদা রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা, সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম এবং আইনি সুরক্ষা জরুরি।

মে দিবসের এই দিনে প্রশ্ন উঠে আসে—শিল্প শ্রমিকদের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি শ্রমিকদের ন্যায্যতা নিয়ে কতটা কথা হচ্ছে? কৃষি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশের কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে পড়তে পারে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।