২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

নদী-খাল শুকিয়ে কৃষিতে পানি সংকট রাজবাড়ীতে

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৭ এপ্রিল ২০২৫ · ৫ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
নদী-খাল শুকিয়ে কৃষিতে পানি সংকট রাজবাড়ীতে

রাজবাড়ী জেলায় প্রবাহিত ৯টি নদী ও ৫৪টি খাল কৃষি উৎপাদনের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করত। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি আর গ্রীষ্মকালে নদী-খালের পানি ছিল কৃষকদের সেচের মূল ভরসা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পদ্মা, যমুনা ও গড়াই ছাড়া অন্যান্য নদী ও খালগুলো শুষ্ক মৌসুমে প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট, আর কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মা, যমুনা ও গড়াই বাদে রাজবাড়ীর অন্য ছয়টি নদী ও ৫৪টি খাল এখন পানিশূন্য। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। পানির ঘাটতির কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের আভাস দিচ্ছে।

কালুখালী উপজেলার দোয়ারিয়া গ্রামের চাষি নিরঞ্জন কুমার দাস বলেন, “চার মাস নদীতে পানি থাকে, আর বাকি সময়ে একেবারে শুকিয়ে যায়। গভীর করে নদী কাটলে সারাবছর পানি থাকত।”

চাষি হাতেম আলী জানান, “নদীতে পানি না থাকায় মেশিন থেকেও এখন পানি উঠছে না। এর ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে—যেখানে আগে ৫০ মণ পেঁয়াজ হত, এখন হচ্ছে মাত্র ২০ মণ।”

চন্দনী ইউনিয়নের চাষি ফিরোজ শেখ বলেন, “আমাদের চত্রা নদীতে এখন পানি নেই। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মেশিন দিয়ে পানি তুলেও পর্যাপ্ত সেচ সম্ভব হচ্ছে না। নদী-খাল খনন করা হলে কৃষকদের জন্য বড় উপকার হতো।”

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম রাসুল বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমে গেলে ছোট নদী ও খালগুলোও শুকিয়ে যায়। ফলে কৃষকেরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেন না। পানির স্তর যেভাবে কমছে, তা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।”

রাজবাড়ী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাকারিয়া বলেন, “নদীগুলোর নাব্যতা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বর্ষাকালে পানি এলে তা ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জও হচ্ছে না। ফলে পানির সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম.এ শামীম জানান, “রাজবাড়ীর ছয়টি ছোট নদীর পানির উৎস মূলত পদ্মা ও গড়াই। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে এসব বড় নদীর পানির স্তর ছোট নদীগুলোর তুলনায় অনেক নিচে নেমে যায়। ফলে ছোট নদী ও খালগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ে।”

স্থানীয় কৃষক ও বিশেষজ্ঞরা দ্রুত নদী ও খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নদী-খালের নাব্যতা ফিরিয়ে এনে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা না হলে রাজবাড়ীর কৃষি উৎপাদন ও পানির টেকসই ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। এখনই উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।