২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

সোনালি স্বপ্নের গল্প: বোরো ধানের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
সোনালি স্বপ্নের গল্প: বোরো ধানের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে সোনালি ধানের মাঠের অপূর্ব শোভা যুগের পর যুগ বাঙালির মনে গভীর আবেগ ছড়িয়ে দিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাতীয় সংগীত থেকে শুরু করে তার নানা গানে ধানের মাঠের রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি বর্ণনা পাওয়া যায়, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ হয়ে আছে।

বিশ্বজুড়ে ধানকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ দানাশস্য। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার জাতের ধানের অস্তিত্ব জানা গেছে। ভারতের পরিবেশবিজ্ঞানী ও ধান সংরক্ষক দেবল দেব জানিয়েছেন, ষাটের দশকের আগে শুধু ভারতে ৪২ হাজারের বেশি স্থানীয় জাতের ধান চাষ হতো।

বাংলাদেশের ইতিহাসও ছিল সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বলছে, গত শতাব্দীর শুরুর দিকে এখানে ছিল প্রায় ১৮ হাজার স্থানীয় জাতের ধান। আশির দশকের শুরুতে ব্রি প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জাতের নাম সংগ্রহ করলেও বর্তমানে সংরক্ষিত আছে ৮ হাজারের কিছু বেশি জাতের ধানের জার্মোপ্লাজম। অর্থাৎ এক শতাব্দীতে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি স্থানীয় জাতের ধান বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবে এখনো পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত আউশ, আমন এবং বোরো মৌসুম মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার জাতের ধানের চাষ হয়। যদিও অধিক ফলনশীলতার কারণে মূলত মাত্র কয়েকটি জাতই বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে।

উচ্চফলনশীল জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ৭১, ব্রি ৭৫ ও ব্রি ৭৬। বোরো মৌসুমে জনপ্রিয় ছিল ব্রি ২৮ ও ব্রি ২৯, বর্তমানে ব্রি ৯৬ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০ দশমিক ৪৫ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদ ড. মো. রওশন জামাল তার 'পরিসংখ্যান বিভ্রান্তিতে বোরো ধানের আবাদ' শিরোনামের লেখায় উল্লেখ করেন, "ভাতের দেশ বাঙালির খাদ্যনিরাপত্তায় সেচনির্ভর উচ্চফলনশীল বোরো ধান এখন প্রধান ভূমিকা রাখছে।" বর্তমানে দেশের মোট ধান উৎপাদনের ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকেই। অথচ, উন্নত সেচব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগে দেশের প্রধান ধান মৌসুম ছিল আমন ও আউশ।

উন্নত সেচপ্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কারণে ধীরে ধীরে আউশের আবাদ কমেছে এবং বোরোর চাষ বেড়েছে।

চিত্রে দেখা যায়, খুলনার পশ্চিম বিলপাবলা এলাকায় কৃষকেরা পাকা বোরো ধান কাটার পর মাড়াই শেষে বাতাসে চিটা ধান আলাদা করছেন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বোরোর ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি মণ বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ টাকা দরে, যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।