কৃষকের আত্মহত্যা ও আলু-পেঁয়াজের দামের ফারাক
সম্প্রতি যশোর ও ঝিনাইদহের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেল, কেন্দ্রের রাজনীতি আর গ্রামীণ বাস্তবতার মধ্যে এক গভীর ব্যবধান। যেখানে ঢাকায় সংবিধান, নির্বাচন আর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তর্ক চলছিল, সেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ফসলের দাম আর জীবিকার সংকট।
পেঁয়াজ, আলু আর শীতকালীন সবজিতে প্রচুর ফলন হলেও কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেও তাঁরা নিজেদের খরচের টাকা তুলতে পারছেন না। রাজশাহীর আড়ানীতে ঋণের চাপে পেঁয়াজচাষি মীর রুহুল আমিনের আত্মহত্যা, মেহেরপুরে বিষপান করে কৃষক সাইফুল শেখের মৃত্যুর ঘটনা — এসব দুঃসংবাদ যেন গ্রামবাংলার মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে এক নিরব কান্নার মতো।
আলুর ক্ষেত্রেও একই করুণ চিত্র। চাষিরা ৮-১০ টাকায় আলু বিক্রি করতে বাধ্য হলেও বাজারে সেই আলু পরে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হিমাগারে জায়গা না পেয়ে আলু পচে যাচ্ছে, আর মধ্যস্বত্বভোগীরা বিপুল মুনাফা লুটছে।
চাষিরা আজ শুধু উৎপাদক নন, তাঁরা নিজেদের শ্রমের দামে হারিয়ে যাচ্ছেন। শহরের বাজারে কম দামে আলু-পেঁয়াজ কিনে আমরা যেমন স্বস্তি পাচ্ছি, তেমনি সেই সস্তার পেছনে লুকিয়ে আছে একেকটি কৃষক পরিবারের অশ্রু ও বেদনা।
সরকার ধান-চালের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করলেও আলু, পেঁয়াজ বা অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে কোনো সুরক্ষা নেই। অথচ কৃষি এখনও দেশের ৪০ শতাংশ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস। এ অবস্থায় আলু-পেঁয়াজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের দাবি তুলছে সচেতন মহল।
কৃষকদের আর্তনাদ যদি কানে না আসে, তাহলে খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি যে নড়ে যেতে পারে, সেটাই আমাদের ভাবার সময় এসেছে। কৃষকদের বাঁচানো মানে দেশের অর্থনীতির শিকড়কে বাঁচানো।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।