দাম বাড়লেও লোকসানের মুখে পেঁয়াজচাষিরা
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হলেও রাজশাহীর পেঁয়াজচাষিরা এখনও লোকসানেই আছেন। আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করে বিপুল পরিমাণে উৎপাদন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চাষিরা তাদের খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরের চাষি মজিবুর রহমান জানান, তিনি পৌনে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। ফলন পেয়েছেন প্রায় ১৭০ মণ। মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তবে সময়মতো ভালো দাম না পাওয়ায় অনেকটাই লোকসানে গেছেন তিনি। মার্চের শেষ দিকে তিনি ১২ মণ পেঁয়াজ ২০ টাকা কেজি দরে এবং আরও ৫০ মণ ১,৩০০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছেন। অথচ বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকা এবং ঢাকায় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
পুঠিয়ার মাহেন্দ্রা গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে ৪০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছেন। খরচ হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা, আর বিক্রি করে পেয়েছেন ৩২ হাজার। লোকসান গুণতে হয়েছে ৬ হাজার টাকা। তিনি বলেন, বাড়িতে সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় জমি থেকে তুলে দ্রুত বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে জানা গেছে, এবার বিঘাপ্রতি পেঁয়াজের ফলন হয়েছে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ মণ, এবং বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৫০–৬০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলেও অধিকাংশ চাষিই ধার-কর্জ করে চাষাবাদ করেছেন, যার কারণে ঋণ পরিশোধে চাপে পড়ে তারা বাজারে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে সালমা বলেন, এবার আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হয়েছে, তাই মৌসুমের শুরুতে বাজারে চাপ ছিল। তবে বর্তমানে আমদানি না থাকায় দাম বাড়ছে। কিছু চাষি এখনো পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখেছেন, তারা বাজারে ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এয়ার ফ্লো পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের বাড়িতে সংরক্ষণাগার নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।