২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

হিমাগার সংকট ও কম দামে আলু বিক্রি—কৃষকের মাথায় হাত

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২১ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
হিমাগার সংকট ও কম দামে আলু বিক্রি—কৃষকের মাথায় হাত

দেশজুড়ে আলু চাষে রেকর্ড ফলন হলেও সংরক্ষণ সংকট ও বাজারমূল্য কম থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। সরকারি হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরে ৫ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে— যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। কিন্তু চাহিদার তুলনায় হিমাগারের ধারণক্ষমতা অর্ধেক হওয়ায় মাঠে, উঠানে ও সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে আছে হাজারো মণ আলু।

কৃষকদের আশা ছিল ভালো দাম পাবেন, কিন্তু হিমাগার ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি বাজারে আলুর দাম এখন উৎপাদন খরচেরও নিচে। কোথাও ক্ষুব্ধ কৃষকরা রাস্তায় আলু ফেলে প্রতিবাদ করেছেন, কোথাও গরুকে খাওয়াচ্ছেন বিক্রি না হওয়া আলু।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা ৯০ লাখ টন। বিপরীতে কোল্ড স্টোরেজে ধারণক্ষমতা মাত্র ৪৫ লাখ টনের মতো। সরকারি তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ৩০% আলু সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা পরামর্শ দিয়েছেন— চাষিদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা, সরকারের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় এবং হিমাগারে প্রান্তিক চাষিদের জন্য সংরক্ষিত স্থান রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে 'অহিমায়িত মডেল ঘর' নামে নতুন এক ধরনের প্রাকৃতিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ৪৫০টি অহিমায়িত ঘর নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি, যার ৭৯% কাজ শেষ। এটি সম্পূর্ণ হলে অন্তত আলু-পেঁয়াজ নিয়ে কৃষকের চিন্তা অনেকটাই কমে আসবে।”

তবে অনেকেই বলছেন, হিমাগার মালিকরা আইন অমান্য করে ভাড়া বাড়িয়েছে। আগে যেখানে ৭০ কেজির বস্তা রাখা যেত ৩৫০ টাকায়, এখন তা ৫০ কেজিতে নামিয়ে এনে কেজিপ্রতি ভাড়া ৮ টাকায় নির্ধারণ করেছে তারা। গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, “এদের জেলে পাঠানো উচিত ছিল, কারণ তারা সরকারি নিয়ম না মেনে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার ১১ লাখ টন আলু কিনে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে। একই পথে বাংলাদেশও এগোতে পারতো।”

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দাবি, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রাকৃতিক ঘরের সংখ্যা বাড়লে হিমাগারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। সরকারিভাবে একেকটি ঘর ১৫ বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য, আর খরচও অনেক কম।

নতুন বাজার খোঁজার কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়। গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, “নেপাল, শ্রীলঙ্কার মতো দেশে মানসম্মত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিতে হবে।”

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।