২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

রোগ কম, ফলন বেশি—দিনাজপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রি ধান ১০৩

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২১ এপ্রিল ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
রোগ কম, ফলন বেশি—দিনাজপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রি ধান ১০৩

আমন মৌসুমের জন্য উন্নত জাত ‘ব্রি ধান ১০৩’ এখন দিনাজপুরের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম, ফলন বেশি—এ কারণে নতুন এই জাত চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘ব্রি ধান ১০৩’ এর জীবনকাল ১২৮-১৩৩ দিন। প্রতি হেক্টরে ৬.২ টন থেকে ৮ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। চালের গঠন চিকন ও লম্বা হওয়ায় বাজারে এর ভালো দাম মেলে। এছাড়া এটি আগে পেকে যায় বলে এর পরে সরিষা ও আলু চাষ করাও সম্ভব হয়।

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বৈগ্রাম গ্রামের তিন কৃষকের মাঝে প্রদর্শনী হিসেবে এই জাতের বীজ বিতরণ করা হয়। কৃষক শাহিনুর রহমান জানান, “পোকামাকড়ের উপদ্রব ছিল খুবই কম। ফলে কীটনাশকের প্রয়োজন হয়নি বললেই চলে। ফলনও খুব ভালো হয়েছে।”

স্থানীয় কৃষি অফিস বীজ সংরক্ষণের জন্য তাদের ড্রাম দিয়েছে, যাতে তারা নিজেরাও পরবর্তীতে চাষ করতে পারেন এবং অন্য কৃষকদের মধ্যে বীজ ছড়িয়ে দিতে পারেন।

কৃষানি রেহেনা আক্তার বলেন, “ধান হেলে পড়ার হারও অনেক কম। আগেভাগেই পেকে যায় বলে রবিশস্যের চাষ করা যায়। আমরা বীজ সংরক্ষণ করেছি, সামনে আরও বড় পরিসরে চাষ করবো।”

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, “ব্রি ধান ১০৩ একটি রোগ-বালাই প্রতিরোধী ও পরিবেশবান্ধব জাত। আগাছা কম হয়, পরিচর্যাও সহজ। আমরা চাই এই জাতটি ছড়িয়ে পড়ুক কৃষকদের মধ্যে, যাতে তারা কম সময়ে বেশি ফলন পায় এবং রবিশস্য চাষেও লাভবান হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষক পর্যায়ে বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে সম্প্রসারণ কৌশল নিয়েছি। কৃষকরা বীজ সংরক্ষণ করেছেন, সেই বীজ আবার নতুন মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।”

নতুন জাতের এ ধান চাষে দিনাজপুরের কৃষকদের সফলতা দেখে আশা করা যায়, সামনের মৌসুমগুলোতে ব্রি ধান ১০৩ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।