নবীনগরে ভুট্টা চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা
সেচ সংকট, অনাবৃষ্টি কিংবা আগাম বন্যার মতো ঝুঁকি এড়িয়ে অধিক লাভের আশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কৃষকেরা ধানের পরিবর্তে ঝুঁকছেন ভুট্টা চাষে। উপজেলার হাওর ও চরাঞ্চলের অনেক জমি যেখানে ধান আবাদ অনিশ্চিত—সেসব জমিতে এখন কৃষকেরা আশার আলো দেখছেন ভুট্টার খেতে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শীতকালীন ভুট্টা চাষ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ হেক্টরে, যেখানে গত বছর ছিল ১২৫ হেক্টর। অর্থাৎ আবাদ বেড়েছে ৩৭ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে জিনদপুর, ইব্রাহিমপুর, কাইতলা দক্ষিণ ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে চলছে ভুট্টা সংগ্রহ ও মাড়াইয়ের ব্যস্ততা। কৃষকেরা জানাচ্ছেন, এ বছর ফলন ভালো হলেও কাঁচা ভুট্টার দর কিছুটা কম থাকায় শঙ্কায় আছেন অনেকে। দোলা বাড়ির কৃষক নাসির মিয়া জানান, “প্রতি মণ কাঁচা ভুট্টা ৮০০-৮২০ টাকায় বিক্রি করছি, শুকিয়ে বিক্রি করলে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।”
জিনদপুরের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, “ভুট্টা চাষে পানি লাগে কম। পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে লালশাক, পালংশাক চাষ করে বাড়তি আয় করা যায়।” ফতেহপুর গ্রামের কৃষক শাহ আলম জানান, “ভুট্টা চাষে চার রকম লাভ—ভুট্টা বিক্রি, গাছের পাতা গরুকে খাওয়ানো, শাক আবাদ, আর শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার।”
কৃষি অফিস থেকেও কৃষকের পাশে রয়েছে প্রশাসন। কৃষক আহসানুল্লাহ বলেন, “আমার জমি আগে পতিত ছিল। এবার সেখানে ভুট্টা চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ আর প্রশিক্ষণ পেয়েছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “ভুট্টা একটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ফসল। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জমিতে ধানের বদলে ভুট্টা আবাদে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। এ ফসল চাষে আমরা নিয়মিত কৃষকদের পাশে আছি।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনো ভুট্টা ২৮ থেকে ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতি মণ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। উন্নত জাতের ভুট্টা যেমন ডিক্লাব, ইউরেকা, সান ২২২, কাবেরি, ধামাকা, লাকি-৭—এগুলোও দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
এক বিঘা জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মণ ভুট্টা ফলন পেলে এবং বাজার দর ঠিক থাকলে বিঘা প্রতি কৃষকের ১৫-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।
নবীনগরের মাঠজুড়ে এখন ভুট্টার সবুজ–সোনালি রঙই যেন কৃষকের নতুন সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।