পদ্মার পানি বরেন্দ্রে: ২০ কিমি পাইপে কৃষিতে নতুন বিপ্লব
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক হারে নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ ও পানীয় জলের সংকট চরমে পৌঁছেছে। এই অঞ্চলজুড়ে তিনটি কৃষি মৌসুমেই সেচ নির্ভর করে মূলত ভূগর্ভস্থ পানির উপর। ফলে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।
এই সংকট মোকাবেলায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মানদীর পানি বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রচারণ (EIDL)’ শীর্ষক এই প্রকল্পে পদ্মানদীর পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করে আবাদি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গোদাগাড়ী উপজেলার সারাংপুরে ইনটেক পাম্প স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বুস্টার ১ ও ২ হয়ে দুধাই খাল পর্যন্ত পৌঁছাবে। এইচডিপিই পাইপ লাইনের মাধ্যমে ১৮-২০ কিলোমিটার দূরত্বে পানি সরবরাহ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে আরএফএল, যা ১২০টি এলএলপি পাম্প স্থাপন করবে এবং ১২০ কিউসেক পানি সরবরাহ করবে।
উপকারভোগীদের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার কৃষক, আর নতুন করে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি আবাদে আসবে। ফলে প্রত্যাশিত বাড়তি ফসল উৎপাদন হবে ১ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএমডিএ গোদাগাড়ী-১ জোনের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সরকার জানান, খাল শুকিয়ে যাওয়ায় ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় সংকট চরমে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকরা পানির ঘাটতি কাটিয়ে আবারও নিয়মিত আবাদে ফিরতে পারবেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কিছু কৃষকের জমিতে পাইপ বসানোর কারণে কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকৌশলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং বাকি কৃষকদেরও যথাসময়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
স্থানীয় কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তার ৫০ বিঘার মধ্যে পানির অভাবে ২০ বিঘা অনাবাদি ছিল। এই প্রকল্পে তিনি পুরো জমিই আবাদ করতে পারবেন। সুলতানুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক বলেন, “আমার ৮০ বিঘা জমি পুরোপুরি চাষে আনতে পারবো। এতে ফসল ও আয়—দুই-ই বাড়বে।”
প্রকল্প পরিচালক শিবির আহমেদ জানান, এই ৫৪৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তখন থেকেই কৃষকরা প্রকৃত উপকার পেতে শুরু করবেন। এতে যেমন ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে, তেমনি অনাবাদি জমি আবাদে আসবে।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।