সেচের জন্য দিনে টানতে হয় ৫০০ বালতি পানি
তিন দশক ধরে কৃষিকাজের মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন বাগেরহাটের শরণখোলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান খান। নিজের দুই একর জমিতে তিনি সাধারণত বাঙ্গির চাষ করে থাকেন। এতদিন সেচের জন্য ভরসা ছিল কাছ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুরিয়ার খাল। কিন্তু খালটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং দখলের কারণে আজ তা প্রায় মৃতপ্রায়। ফলে ফসল বাঁচাতে এখন বালতি ও কলস হাতে এক কিলোমিটার দূরের পুকুর থেকে পানি এনে চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন হাবিবুর।
শুধু হাবিবুর নন, শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকই একই সংকটে। পানি সংকট আর সেচব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে ফসল বাঁচাতে হচ্ছে কষ্টসাধ্য পদ্ধতিতে।
কৃষক শাহীন শেখ জানান, ‘‘খালে পানি না থাকায় মোটরের মাধ্যমে ৮০০ থেকে ১ হাজার ফুট পাইপ বসিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে তিনগুণ। এভাবে টিকতে পারব না।’’
অন্যদিকে, দক্ষিণ খোন্তাকাটার জাফর মুন্সি বললেন, ‘‘আমতলির খালে পানি না থাকায় আমন ধান চাষে আমরা বড় ক্ষতির শিকার হয়েছি। এখন বোরো আবাদের সময়েও চরম কষ্টে আছি।’’
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, চার ইউনিয়নে অন্তত ১১টি খাল খনন জরুরি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জিমতলা (১.০৬ কিমি), হরিণঘাটা (১.২৬), আমতলি (৩), বরইতলা (২.৫), রতিয়া (৬), জানে খাল (১.৬) ইত্যাদি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, "আমরা কৃষকদের সাধ্যমতো পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু খালগুলো খনন না হলে আগামীতে চাষাবাদ একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়বে।"
তিনি আরও বলেন, "প্রয়োজনীয় খালগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত খনন না হলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।"
বর্তমানে কৃষক হাবিবুর রহমান প্রতিদিন সকালবেলা ৫০০ বালতি পানি টেনে আনছেন শুধু ফসল বাঁচানোর জন্য। কিন্তু তারপরও গাছ বাঁচছে না। তাঁর মতো অনেক কৃষক বলছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তারা কৃষি পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনায় সরকারি উদ্যোগ না এলে এ অঞ্চলের কৃষি শুধু ধুঁকবেই না—গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নেমে আসবে বিপর্যয়।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।