মিরসরাইয়ে ৬ হাজার ৭৭ হেক্টর জমিতে ডাল চাষ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবার ডাল চাষে রেকর্ড পরিমাণ জমি আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার ৬ হাজার ৭৭ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ডাল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মুগ ডাল রয়েছে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে, ফেলন ডাল ২ হাজার ৫৫০ হেক্টর, খেসারি ৭৫০ হেক্টর, মসুর ১৮ হেক্টর, মটর ডাল ৬ হেক্টর এবং মাসকলাই ডাল ৩ হেক্টরে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এক ফসলি জমিতে রবি মৌসুম শেষে পড়ে থাকা জমিতে ডাল চাষ করে তারা ভালো লাভ পাচ্ছেন। এসব জমিতে খুব বেশি সেচ লাগে না, খরচও কম। ফলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভ নিশ্চিত।
সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী এলাকায় মাঠজুড়ে এখন মুগ ডালের সবুজ লতা বাতাসে দুলছে। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ডাল তুলে নিচ্ছেন। চরশরত এলাকার কৃষক বিমল চন্দ্র দাশ জানান, “চলতি বছর ৩ একর জমিতে মুগ ডাল করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে, ইতোমধ্যে বাজারেও বিক্রি শুরু করেছি।”
উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক জানে আলম বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে আমি বিভিন্ন ডালের চাষ করি। প্রতিবার ঘরের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করি। এবারো লাভ হবে বলে আশা করছি।”
মিরসরাইয়ের বড়দারোগাহাট, মিঠাছরা, আবুরহাট, আবুতোরাব বাজারে ইতোমধ্যে মুগ ডালের জমজমাট হাট বসেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেও পাইকাররা আসছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, “সেচ ও পরিচর্যার খরচ কম, ফলে ঝুঁকি কম। তবে ফসল তোলার আগ মুহূর্তে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।”
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, “এখানকার মাটি ডাল চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা দিন দিন ডালের দিকে ঝুঁকছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
ডাল চাষের এই সফলতা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে যেমন স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রোটিন ঘাটতি পূরণে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।