২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

আনারস বদলাচ্ছে গারো পাহাড়ের অর্থনীতি

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ২০ এপ্রিল ২০২৫ · ৪ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
আনারস বদলাচ্ছে গারো পাহাড়ের অর্থনীতি

শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ে আনারস চাষ এখন আর কেবল পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নয়—এটি হয়ে উঠেছে পাহাড়ি কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতার একটি শক্ত ভিত। সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়জুড়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সুস্বাদু ‘জলডুবি’ জাতের আনারস চাষ। মাটির গুণাগুণ ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে এই অঞ্চলটি হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় আনারস উৎপাদন কেন্দ্র।

কয়েক বছর আগেও এসব এলাকায় কাসাভা আলু ছাড়া অন্য কোনো ফসল তেমন একটা চাষ হতো না। লাভজনক না হওয়ায় জমির বড় একটা অংশ অনাবাদি পড়ে থাকত। ফলে এখানকার আদিবাসী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই জীবিকা নির্বাহ করতেন কাঠ কাটা, পাথর ভাঙা কিংবা বালু উত্তোলনের মতো কষ্টসাধ্য কাজে। তবে আনারস চাষের মাধ্যমে বদলে গেছে সেই চিত্র। পাহাড়ি কৃষকেরা এখন নিজেরাই হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা।

আদিবাসী কৃষক জমশন ম্রং এই বিপ্লবের অন্যতম পথিকৃৎ। চার বছর আগে তিনি ১৮ বিঘা পাহাড়ি জমি লিজ নিয়ে আনারস চাষ শুরু করেন। গত বছর তিনি প্রায় ১৬ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেন। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমানে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের পাশের এলাকা, পশ্চিম বাকাকুড়া, ছোটনগরসহ আশপাশে প্রায় শতাধিক কৃষক জলডুবি জাতের আনারস চাষ করছেন।

আনারস গাছের চারপাশে দেওয়া হচ্ছে সোলার ফেন্সিং ও বায়ু ফেন্সিং, যাতে বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কৃষকেরা জানাচ্ছেন, প্রতি তিন বিঘা জমিতে আনারস চাষে খরচ হচ্ছে এক লাখ টাকা এবং আয় হচ্ছে প্রায় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। অনেকে নিজেরাই চারা উৎপাদন করছেন এবং অন্য কৃষকদেরও সহায়তা করছেন।

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু আনারস চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সরকারি সহায়তা এবং হাতির আক্রমণ রোধ করতে পারলে বিশাল পাহাড়ি অঞ্চল চাষের আওতায় আনা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “মধুপুরের আনারসের চেয়ে শেরপুরের আনারস মিষ্টি, রসে ভরপুর এবং বাজারে চাহিদাও বাড়ছে।”

এখন শুধু প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ, বাজারজাতকরণে সহায়তা ও হাতির আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা। তাহলেই শেরপুরের গারো পাহাড় হতে পারে দেশের অন্যতম আনারসভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।