২৫ আগস্ট ২০২৬ · ঢাকা, বাংলাদেশ
এগ্রি বার্তা মাটির খবর, মানুষের কথা
কৃষি

রংপুরে ৩৯১ আলু সংরক্ষণ ঘর, সুবিধা পাচ্ছে কতজন কৃষক?

এগ্রিবার্তা ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০২৫ · ৩ মিনিট পড়ার সময় · ১ বার পঠিত
শেয়ার করুন:
রংপুরে ৩৯১ আলু সংরক্ষণ ঘর, সুবিধা পাচ্ছে কতজন কৃষক?

চাষি পর্যায়ে আলু সংরক্ষণে খরচ কমাতে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় নির্মিত হয়েছে ৩৯১টি অহিমায়িত আলু সংরক্ষণ মডেল ঘর। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০২১ সালে এই প্রকল্প গ্রহণ করে, যার প্রত্যেকটি ঘরে ২৫-৩০ মেট্রিক টন আলু রাখা সম্ভব এবং ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা করে। প্রতিটি ঘর ১০ সদস্যের একটি বিপণন দলের জন্য বরাদ্দ। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, অধিকাংশ ঘরে দখল চলে গেছে গুটিকয়েক সভাপতির হাতে।

রংপুরের সদরপুর ও মুন্সিপাড়াসহ বেশ কিছু স্থানে ঘুরে দেখা যায়, নামমাত্র দল থাকলেও সংরক্ষণের অধিকাংশ সুবিধা ভোগ করছেন সভাপতিরাই। যেমন সদরপুরে সভাপতি আবুল হাসানাত স্বীকার করেন, "একজনেরই জায়গা হয় না, বাকিরা কোথায় রাখবে?"

অপরদিকে মুন্সিপাড়ার সভাপতি দাবি করলেও তিনজনের আলু রাখা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের কৃষকরা জানান, দলীয় অংশগ্রহণ বাস্তবে খুব কমই হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য—সমবায়ভিত্তিক সমবন্টন—গড়িয়েছে অনিয়মের গণ্ডিতে।

তবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাকিল আকতার জানান, প্রতিটি মডেল ঘরে সদস্যদের সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং এতে সংরক্ষণ ব্যয় কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমছে।

কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, একসঙ্গে আলু রাখায় আলু বের করতে সময় লাগে, একেক জনের আলুর ধরন আলাদা হওয়ায় মিশ্রণেও জটিলতা হয়। আরও বড় আকারে ঘর নির্মাণ এবং আলাদাভাবে সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে সুবিধা বাড়ত বলেও মত দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ ড. রোকনুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদার ভিত্তিতে গবেষণা জরুরি। নজরদারির অভাবে প্রকল্প ভালো হলেও তার সুফল মাঠে পৌঁছায় না।”

উল্লেখ্য, চলতি জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এগ্রিবার্তা ডেস্ক

মন্তব্য (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।