একই গাছে আলু-টমেটো! বগুড়ার ‘টমালু’ চাষে সাড়া
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় গ্রাফটিং পদ্ধতিতে একই গাছে একসাথে আলু ও টমেটো চাষ করে ব্যতিক্রমী সাফল্যের নজির গড়েছেন কৃষি কর্মকর্তা রুবেল মিয়া। আলু গাছের গোড়ায় জন্ম নিচে আলু, আর ডালে থোকা থোকা টমেটো—এভাবেই তাঁর উদ্ভাবিত নতুন সবজি ‘টমালু’ এখন আলোচনায়।
মোকামতলার ‘কৃষিবন্ধু এগ্রো ফার্ম’-এ তিন শতক জমিতে প্রায় হাজার খানেক গাছে এ বিশেষ চাষ করেছেন তিনি। এই চাষ পদ্ধতিতে রুটস্টক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আলুর চারা, আর সায়ন হিসেবে টমেটোর চারা। রুবেল জানান, টমেটো ও আলু একই পরিবারের হওয়ায় গ্রাফটিং পদ্ধতিতে এক গাছে দুই ফসল সম্ভব হয়েছে।
এই চাষে ব্যবহৃত হয়েছে ডায়মন্ড, কার্ডিনাল ও এস্টোরিক জাতের আলু এবং বাহুবলী জাতের টমেটো। প্রতিটি গাছে সাড়ে চার কেজি পর্যন্ত টমেটো এবং এক কেজির বেশি আলু পাওয়া গেছে বলে জানান নার্সারির বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা জান্নাতি খাতুন।
গ্রাফটিং পদ্ধতি সম্পর্কে রুবেল বলেন, “চারা লাগানোর ৫-৭ দিনের মধ্যেই জোড়া লেগে যায়। পরিচর্যার খরচ বাড়ে না, বরং একই জমিতে দুটো ফসল হওয়ায় এটি বেশ লাভজনক।” পাশাপাশি, তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান।
ফার্ম দেখতে এসেছিলেন কামারপুরের সবজিচাষি জাহেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “একসঙ্গে আলু ও টমেটো চাষ করে অল্প জমিতে বেশি লাভ করা সম্ভব।”
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, “রুবেল মিয়ার এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এতে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। কৃষি অফিস তার পাশে রয়েছে।”
এগ্রিবার্তা ডেস্ক
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।